খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৪২ পিএম
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একই সময়ে ও একই স্থানে বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুখোমুখি মিছিলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৫টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী আড়াইহাজার বাজার এলাকায় এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করে। তবে সংঘাত এড়াতে পুলিশ দুই পক্ষের মাঝখানে শক্ত অবস্থান নেওয়ায় বড় ধরনের কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেলে আড়াইহাজার বাজার এলাকায় জামায়াতে ইসলামী একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ঠিক একই সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীরাও একটি পৃথক মিছিল নিয়ে ওই এলাকায় উপস্থিত হন। দুটি মিছিল একেবারে কাছাকাছি চলে এলে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি দ্রুত বেগতিক দেখে আড়াইহাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই দলের মিছিলের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান নেয়।
এদিনের কর্মসূচিতে বিএনপির পক্ষে নেতৃত্ব দেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য লুতফর রহমান আব্দু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর মিছিলে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মুমিনুর হক সরকার, জেলা সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক ইলিয়াস মোল্লা এবং আড়াইহাজার উত্তর শাখার আমির মাওলানা মনিরুল ইসলামকে।
কর্মসূচি ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়ে জামায়াত নেতা অধ্যাপক ইলিয়াস মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এটি তাঁদের পূর্বনির্ধারিত দলীয় কর্মসূচি ছিল। মূলত জামায়াতের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটানো ও বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই বিএনপি একই সময়ে মাঠে নামে। তবে দলীয় নির্দেশনায় তাঁরা সংঘাত এড়িয়ে রাজনৈতিক ধৈর্য্য প্রদর্শন করেছেন।
জামায়াতের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ। তাঁর দাবি, বিএনপির এই কর্মসূচিটিও আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তাঁরা কোনো দলের মিছিলে উস্কানি দেননি এবং কোনো সংঘাতময় পরিস্থিতিতে জড়াননি।
ঘটনার পর থেকে পুরো বাজার ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন জানান, আড়াইহাজারের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই দলের মাঝামাঝি শক্ত অবস্থান নেয়। পুলিশের তৎপরতায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষই তাদের নিজ নিজ রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষ করে স্থান ত্যাগ করেছে। বর্তমানে আড়াইহাজার বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
মন্তব্য