ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডসের (ডব্লিউসিএল) চলতি আসর থেকে সরে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নস। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র বা এনওসি না দেওয়ায় টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ হারিয়েছে সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দলটি। পিসিবির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হলেও শেষ পর্যন্ত অবস্থান পরিবর্তন করেনি বোর্ড।
পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দলটি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে ডব্লিউসিএলে অংশ নিতে না পারার বিষয়টি নিশ্চিত করছে। এনওসি দেওয়ার বিষয়ে পিসিবি তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকায় টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না।
দলটির মালিক কামিল খান পিসিবিকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছিলেন। পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নসের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তিনি আলোচনাতেও যুক্ত ছিলেন। তবে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা পিসিবির কর্তৃত্ব ও সিদ্ধান্তকে সম্মান করে। একই সঙ্গে ক্রিকেটের কিংবদন্তিদের নিয়ে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এই আসরে পাকিস্তানি খেলোয়াড়েরা মাঠে নামতে না পারায় হতাশাও প্রকাশ করা হয়েছে।
ঘটনাটির পেছনে রয়েছে গত বছরের ডব্লিউসিএল ঘিরে তৈরি হওয়া বিরোধ। ওই আসরে ভারতের অংশগ্রহণ নিয়ে একাধিক ঘটনা পিসিবির অসন্তোষের কারণ হয়। দুটি ম্যাচ থেকে ভারত সরে দাঁড়িয়েছিল, যার একটি ছিল সেমিফাইনাল। সেই ম্যাচে পাকিস্তানকে ওয়াকওভার দেওয়া হয়। কিন্তু গ্রুপ পর্বের একটি ম্যাচে ভারত অংশ না নিলেও তাদের একটি পয়েন্ট দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় পিসিবি।
তখন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড টুর্নামেন্ট আয়োজকদের বিরুদ্ধে ‘ভণ্ডামি ও পক্ষপাতের’ অভিযোগ তোলে। বোর্ডের দাবি ছিল, ক্রিকেটের সঙ্গে রাজনৈতিক বিষয়কে মিশিয়ে ফেলা হচ্ছে। ওই অবস্থান থেকেই পিসিবি ভবিষ্যতে ডব্লিউসিএলে পাকিস্তানের অংশগ্রহণের ওপর কার্যত নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা জানায়। চলতি আসরে সেই অবস্থানেই অটল থেকেছে তারা।
এদিকে, গতবারের রানার্সআপ পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নসকে এবারের আসরেও মাঠে রাখতে আয়োজকেরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়েছিলেন। টুর্নামেন্ট শুরু হয় ৩ অক্টোবর। উদ্বোধনী ম্যাচে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হয়। পাকিস্তানের ম্যাচের সূচি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশের বিপক্ষে দলটির নির্ধারিত ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়া হয়, কারণ আয়োজকেরা তখনও পিসিবির সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা ধরে রেখেছিলেন।
আয়োজকেরা পাকিস্তানের ম্যাচগুলোর সূচি নতুন করে সাজানোর জন্যও প্রস্তুত ছিলেন। এনওসি পাওয়ার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু সোমবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচ সামনে আসার পর পরিস্থিতি পরিষ্কার হয়ে যায়—অচলাবস্থা কাটার আর বাস্তবসম্মত সুযোগ নেই।
পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নসের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির। দলে ছিলেন শোয়েব মালিক, মোহাম্মদ হাফিজ, সরফরাজ আহমেদ ও ওয়াহাব রিয়াজের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররাও। ফলে দলটির অনুপস্থিতি শুধু একটি ম্যাচের সূচি পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; সাবেক তারকাদের নিয়ে গড়া পাকিস্তান দলের পুরো টুর্নামেন্টেই অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে গেছে।
পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নস তাদের বিবৃতিতে খেলোয়াড়, সমর্থক ও ভক্তদের ধৈর্য এবং অব্যাহত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। একই সঙ্গে দলটির এবারের ডব্লিউসিএল-যাত্রা মাঠে শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে গেল পিসিবির এনওসি না পাওয়ার কারণে।


