খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ই জুলাই ২০২৬, ১:৪৫ পিএম
রাজধানীর ধানমন্ডি সংলগ্ন কলাবাগানের একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে পিংকি বিশ্বাস (১৯) নামে এক নার্সিং শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে কলাবাগান ক্রিসেন্ট রোডের একটি ভবনের নিচতলার কক্ষ থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাঁর দেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত পিংকি আনোয়ার খান মডার্ন নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলাবাগান ক্রিসেন্ট রোডের ৭২ নম্বর ভবনের নিচতলায় গড়ে ওঠা একটি বেসরকারি ছাত্রী হোস্টেলে বসবাস করতেন পিংকি। শুক্রবার সকালের দিকে হোস্টেলের মালিক নয়ন মিয়া কক্ষের ভেতর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি কলাবাগান থানা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় পিংকির নিঝুম ও নিথর দেহ দেখতে পাওয়া যায়। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করে আইনি সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং মরদেহটি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানের বিষয়ে কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লিজা আক্তার জানান, ঘটনাস্থল ও পারিপার্শ্বিক আলামত পরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা। ঘটনার মূলে কোনো ধরনের প্রেমঘটিত বা মানসিক টানাপোড়েনের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক ও সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে।
হতাশাজনক এই ঘটনার সময় হোস্টেলে পিংকির রুমমেটরা উপস্থিত ছিলেন না। জানা গেছে, ক্রিসেন্ট রোডের ওই নির্দিষ্ট কক্ষে পিংকির সঙ্গে আরও দুজন সহপাঠী বা শিক্ষার্থী থাকতেন। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিগত ছুটির কারণে তাঁরা ঘটনার সময় নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ফলে কক্ষে একা ছিলেন পিংকি।
নিহত পিংকি বিশ্বাসের গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার উজিরপুর থানার জামবাড়ি গ্রামে। তাঁর বাবার নাম প্রফুল্ল বিশ্বাস। কৃতি ও মেধাবী সন্তানকে হারিয়ে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। একজন সম্ভাবনাময় নার্সিং শিক্ষার্থীর এমন করুণ ও আকস্মিক পরিণতিতে তাঁর সহপাঠী, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর মধ্যে বিষাদঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা প্ররোচনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরসহ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
মন্তব্য