নিহত ওয়াদুদ বিশ্বাস কালীগঞ্জ শহরের আড়পাড়া গ্রামের নদীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মতিয়ার বিশ্বাসের ছেলে। জীবিকার তাগিদে নতুন বাজার এলাকায় একটি ভাতের হোটেল পরিচালনা করতেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে নতুন বাজার এলাকার ছাগলহাটার একটি চারদিক খোলা চৌচালা ঘরে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। প্রথমে তাঁরা মরদেহটি শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে কালীগঞ্জ থানা থেকে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওয়াদুদ বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করে। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে কী পরিস্থিতিতে তিনি ওই ঘরে গিয়ে অবস্থান করছিলেন এবং কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিক অবস্থায় এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে ময়নাতদন্ত গুরুত্বপূর্ণ
সাধারণত কোনো ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় শরীরের বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা করে মৃত্যুর ধরন সম্পর্কে চিকিৎসাবিজ্ঞানসম্মত ধারণা পাওয়া যায়। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যও তদন্তের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়।
ওয়াদুদ বিশ্বাসের মৃত্যুর ঘটনাতেও পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ড বা আত্মহত্যা—কোনোটিই নিশ্চিত করেনি পুলিশ। ফলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।


