খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মার্কিন বিচার বিভাগ সম্প্রতি ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে বিপুলসংখ্যক নথি প্রকাশ করেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের যৌন নিপীড়ন ও শিশু পাচারের অভিযোগের তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই ফাইলগুলোতে তার দীর্ঘদিনের সহযোগী ও প্রেমিকা গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের ভূমিকা বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ধারণা করা হয়, মেয়েদের এপস্টেইনের হাতে খেলা হিসেবে তুলে আনার মূল দায়িত্বই ছিল ম্যাক্সওয়েলের।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানাচ্ছে, নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য, ইমেইল, ডায়েরি এন্ট্রি, এফবিআই রিপোর্ট এবং আদালতের কপি। এফবিআইয়ের তথ্য অনুসারে, এপস্টেইন ও ম্যাক্সওয়েল একটি সুসংগঠিত গ্রুমিং নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন।
প্রথম শিকার ধরার সময়কাল অনুমান করা হয় ১৯৯৪ সালের মধ্যভাগে। ঘটনা ঘটে মিশিগানের ইন্টারলোচেন স্কুল অব দ্য আর্টস-এর একটি গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে। এখানে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী (আদালতের নথিতে ‘জেন ডো’ হিসেবে পরিচিত) অংশগ্রহণ করেছিলেন। পাম বিচ থেকে প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার দূরে অনুষ্ঠিত এই ক্যাম্পে থিয়েটার, নাচ ও সৃজনশীল লেখালেখি শেখানো হত।
নিম্নলিখিত টেবিলে প্রাথমিক ঘটনা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বছর | বয়স | স্থান | ঘটনা সংক্ষিপ্ত বিবরণ |
|---|---|---|---|
| 1994 | 13 | মিশিগান, ইন্টারলোচেন স্কুল গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প | এপস্টেইন ও গিলেইন প্রথম পরিচয়। এপস্টেইন নিজের পরিচয় দেন শিল্প অনুরাগী ও প্রতিভাবানদের সাহায্যকারী হিসেবে। |
| 1994 | 13 | ফ্লোরিডা, পাম বিচ | এপস্টেইন জেন ডো ও তার মায়ের সঙ্গে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। |
| 1995 | 14 | এপস্টেইনের বাড়ি | নিয়মিত সাক্ষাৎ, নগদ অর্থ প্রদান ও ভয়াবহ শারীরিক নিপীড়ন শুরু। |
| 2004-2005 | 14-18 | এপস্টেইনের বাড়ি | মেয়েদের বয়স অনুযায়ী শারীরিক নিপীড়ন। ‘যত ছোট, তত ভালো’ নীতি। |
| 2007 | 16 | সাক্ষ্য | অন্য কিশোরীকে এপস্টেইনের জন্য নিয়ে আসার বিনিময়ে ২০০ ডলার প্রণোদনা। |
জেন ডোর বাবা ১৩ বছর বয়সের আগে মারা গিয়েছিলেন এবং পরিবার আর্থিক সংকটে ছিল। এপস্টেইন ও ম্যাক্সওয়েল তার পরিবার ও আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন। প্রথম সাক্ষাতের কয়েক মাস পর এপস্টেইন চা খাওয়ার জন্য তাদের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান। এসময় জেন ডোর মা এপস্টেইনকে ‘গডফাদার’ বলে সম্বোধন করতে শুরু করেন।
১৪ বছর বয়সে জেন ডো নিয়মিত এপস্টেইনের বাড়িতে যাতায়াত শুরু করেন। সেখানে সুইমিং, সিনেমা, শপিং ও নগদ অর্থ পাওয়া—সবকিছুই একসময় আনন্দের মনে হতো। তবে গিলেইন প্রায়ই নগ্ন অবস্থায় থাকতেন এবং বিষয়টি হালকাভাবে ‘বড়দের কাজ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করতেন। পরে এপস্টেইন জেন ডোকে তার অভিনেত্রী ও মডেল হওয়ার স্বপ্ন পূরণের প্রলুব্ধি দেখাতেন, যা যৌন নিপীড়নের সূচনা করে।
এপস্টেইনের নেটওয়ার্কে থাকা কিশোরী মেয়েরাই একে অপরকে নিয়ে আসতেন। এক সাক্ষ্যে ১৬ বছরের কিশোরী জানায়, নতুন কাউকে এনে দিলে প্রতি মেয়ের জন্য ২০০ ডলার দেওয়া হতো। নিপীড়নের সময় মেয়েদের বয়স ছিল ১৪–১৮ বছর। ২০১৯ সালে এপস্টেইন কারাগারে রহস্যজনকভাবে আত্মহত্যা করেন, আর গিলেইন ২০২১ সালে শিশু যৌন পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন।
মার্কিন বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক প্রকাশিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’-এ প্রায় ৩৫ লাখ পৃষ্ঠা নথি, ২ হাজার ভিডিও ও ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি অন্তর্ভুক্ত আছে। নথিগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সংযোগ ও সাক্ষাৎবর্ণনা ফাঁস হওয়ায় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।