কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গ্রেপ্তার

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আ ফ ম আহসান উদ্দিন টুটুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে একই দিন জেলার আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বালুতোপা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সম্প্রতি এলাকায় ফিরে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার কাজে যুক্ত হয়েছিলেন টুটুল। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন টুটুল। দীর্ঘদিন আড়ালে থাকার পর সম্প্রতি তিনি নিজ এলাকায় ফিরে আসেন। সেখানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম পুনরায় গুছিয়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন বলে পুলিশের দাবি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে টুটুলের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী মাসে তাঁর জাপানে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। ফলে তাঁর গ্রেপ্তারের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।

টুটুল কুমিল্লার রাজনীতিতে সাবেক রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হকের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর পরিচিতি দীর্ঘদিনের। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৭ জুন ঘোষিত কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব পান আ ফ ম আহসান উদ্দিন টুটুল। ওই কমিটির মাধ্যমে তিনি জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসেন এবং পরবর্তী সময়ে স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর অনেক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে টুটুলের গ্রেপ্তার কুমিল্লার স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা সন্ত্রাসবিরোধী মামলার অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ, মামলার সুনির্দিষ্ট ধারা এবং অভিযোগের বিষয়ে তাঁর নিজের বক্তব্য জানা যায়নি। একইভাবে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো বক্তব্যের বিষয়ে পুলিশের কোনো পৃথক ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়নি।

আইন অনুযায়ী, কোনো মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন—এমন নয়। মামলার অভিযোগ, তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।