খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
ভারতের কেরালায় এক নাবালিকা ক্রিকেটারকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত এক ক্রিকেট কোচকে ৪৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বিশেষ আদালত। একই সঙ্গে আদালত তার বিরুদ্ধে ৭৯ হাজার রুপি অর্থদণ্ডও আরোপ করেছেন। তবে বিভিন্ন ধারায় ঘোষিত সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় আইনগতভাবে তাকে কার্যকরভাবে ২০ বছর কারাভোগ করতে হবে। এই সাজা তার আগের দুটি মামলায় দেওয়া দণ্ড ভোগের পর কার্যকর হবে।
আদালতের রায়ে দণ্ডিত ওই কোচের নাম মনু এম। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ক্রিকেট প্রশিক্ষণের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নিজের অবস্থান ও আস্থার সুযোগ নিয়ে ২০১৮ সালে এক নাবালিকা শিক্ষার্থীকে একাধিকবার যৌন নির্যাতন করেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয় এবং তদন্তে প্রাথমিক অভিযোগের সমর্থনে তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইন (পকসো), তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে কেরালার বিশেষ পকসো আদালত মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে মনু এমকে সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত বিভিন্ন ধারায় পৃথক পৃথক সাজা ঘোষণা করলেও সেগুলো একই সঙ্গে কার্যকর হবে বলে নির্দেশ দেন। এর ফলে ঘোষিত মোট সাজা ৪৭ বছর হলেও কার্যকর কারাদণ্ডের মেয়াদ ২০ বছর হবে। পাশাপাশি ৭৯ হাজার রুপি জরিমানাও পরিশোধ করতে হবে তাকে।
এটি মনু এমের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া তৃতীয় পকসো মামলার রায়। এর আগে একই ধরনের আরও দুটি মামলায়ও তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বর্তমান মামলার সাজা আগের দুটি মামলার সাজা ভোগ শেষ হওয়ার পর কার্যকর হবে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে একাধিক সাবেক শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তোলার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। পরবর্তীতে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে মনু এমের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি পকসো মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে তিনটি মামলার বিচার শেষ হয়েছে এবং প্রতিটিতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। বাকি মামলাগুলোর বিচার এখনো বিচারাধীন রয়েছে।
ভারতে শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধের বিচারের জন্য পকসো আইনকে অত্যন্ত কঠোর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই আইনের উদ্দেশ্য হলো শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতা প্রতিরোধ, দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। বিশেষ আদালতের মাধ্যমে এসব মামলার শুনানি পরিচালিত হয়, যাতে সংবেদনশীল বিষয়গুলো যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে নিষ্পত্তি করা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা ও ক্রীড়া প্রশিক্ষণের মতো আস্থাভিত্তিক পরিবেশে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর নজরদারি, অভিযোগ গ্রহণের নিরাপদ ব্যবস্থা এবং শিশু সুরক্ষাবিষয়ক নীতিমালার বাস্তবায়নও সমানভাবে জরুরি। চলমান মামলাগুলোর রায়ের দিকেও এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।