ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন হামলায় নিহত চার

ক্যারিবীয় সাগরে একটি নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, নৌযানটি মাদক পাচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং এ বিষয়ে ‘নিশ্চিত গোয়েন্দা তথ্যের’ ভিত্তিতেই হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ ধরনের সামরিক অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, ক্যারিবীয় সাগরের একটি প্রতিষ্ঠিত মাদক পাচারের রুট ধরে দ্রুতগতিতে চলছিল নৌযানটি। সেটিকে লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। হামলায় নৌযানে থাকা চারজন নিহত হন বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ।

সাউদার্ন কমান্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌযানটিতে মাদক পরিবহন করা হচ্ছিল—এমন গোয়েন্দা তথ্য তাদের হাতে ছিল। নিহত ব্যক্তিদের ‘মাদক-সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবেও উল্লেখ করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তবে নিহতদের পরিচয় বা নৌযানটিতে ঠিক কী ধরনের মাদক ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলে মাদক পরিবহনের অভিযোগে বিভিন্ন নৌযানকে লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়ে আসছে। এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত ২২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এসব অভিযান মাদক পাচার ঠেকানো এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ মাদকের প্রবাহ বন্ধ করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। তবে অভিযানগুলোর ধরন ও আইনি ভিত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার আইনজীবীরাও প্রশ্ন তুলেছেন।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল এসব হামলার সমালোচনা করেছে। জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞরাও অভিযানগুলোর বৈধতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাদের মূল প্রশ্ন হলো—কোনো নৌযানে মাদক থাকার অভিযোগ থাকলেও সেটিকে সরাসরি প্রাণঘাতী হামলার লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন কতটা প্রযোজ্য।

জাতিসংঘের মানবাধিকার ও সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার বেন সল বলেছেন, এ ধরনের হামলা প্রচলিত আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়ার শামিল—এমনটা বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে।

ফলে মাদকবিরোধী অভিযান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক পদক্ষেপগুলোকে তুলে ধরছে, সেগুলো নিয়ে একদিকে নিরাপত্তা ও মাদক নিয়ন্ত্রণের যুক্তি থাকলেও অন্যদিকে রয়েছে মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন। ক্যারিবীয় সাগরে সর্বশেষ হামলায় চারজনের মৃত্যুর ঘটনাটি সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।