খাগড়াছড়ি থেকে অপহরণের ৮ দিন পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পাঁচ শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) বিকাল ৩টার দিকে তাদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিপন ত্রিপুরা।
শিক্ষার্থীদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অপহৃত পিসিপি সদস্য রিশন চাকমাসহ পাঁচ শিক্ষার্থী নিরাপদে ফিরে এসেছেন এবং এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৬ এপ্রিল সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার গিরিফুল এলাকা থেকে পাঁচ শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয়। অপহৃতরা হলেন—পিসিপি সদস্য রিশন চাকমা, চারুকলা ইনস্টিটিউটের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অলড্রিন ত্রিপুরা ও মৈত্রীময় চাকমা, নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী দিব্যি চাকমা এবং প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী লংঙি ম্রো।
এ ঘটনার পর থেকেই পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ অপহরণের জন্য ইউপিডিএফ (ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট)-কে দায়ী করে আসছিল। তবে ইউপিডিএফ শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থী, প্রগতিশীল সংগঠন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা লাগাতার আন্দোলন গড়ে তোলেন। সেই আন্দোলনের চাপে অবশেষে অপহরণকারীরা কয়েক দফায় শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের চবি শাখা তাদের বিবৃতিতে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আন্দোলনে সোচ্চার সবাইকে, যাদের ঐক্যবদ্ধ চাপে শিক্ষার্থীদের মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
এই ঘটনার পর পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। অপহরণের মতো ঘটনায় পাহাড়ে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও গভীর নজরদারির দাবি তুলেছে সংশ্লিষ্ট মহল।
খবরওয়ালা/আরডি



