খুলনা জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে টানা আট দিনের বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত এই সাঁড়াশি অভিযানে মোট ২৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুলনা রেঞ্জের নতুন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. রেজাউল করিম দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলাজুড়ে এই অভিযান জোরদার করা হয়। প্রশাসনিক এই কঠোর পদক্ষেপের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটছে।
আট দিনব্যাপী এই অভিযানে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান রোধে কঠোর ভূমিকা পালন করে পুলিশ। এ সময় দায়ের করা ১৯টি মাদক মামলায় ৬৮৮ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ৯০৫ গ্রাম গাঁজা এবং ২০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি একটি অস্ত্র সংক্রান্ত মামলায় একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি জব্দ করা হয়। আইন অমান্যকারী ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মোটরসাইকেল চেকিং অভিযান চালানো হয়। এতে ১ হাজার ৮৭৫টি মোটরসাইকেল তল্লাশি করে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ২৬খটি মামলা দায়ের করার পাশাপাশি ১৯৫ জনকে আটক করা হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে গত ৯ অক্টোবর ভোর ৫টার দিকে রূপসা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি যৌথ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রূপসার রামনগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। ওই স্থান থেকে ইমান আলী মোড়লের ছেলে রাজু মোড়লকে (৪২) একটি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও ৭.৬৫ এমএমের দুই রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে রূপসা থানা এলাকার কুখ্যাত ও আলোচিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘বি-কোম্পানি’র একাধিক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মো. মিরাজ গাজী (৩৮), মো. শামিম শেখ (২৭), মো. সাজ্জাদ হোসেন সাগর (২৩), সাইদুল সাইদুর ইসলাম (৪১), সাব্বির হোসেন (২৮), ইয়াছিন আরাফাত ওরফে রাজু (৪৪), মো. কামাল শেখ (৪০), মো. রনি মোল্লা (২৮) এবং সুমন হাওলাদার (৩১)।
অন্যদিকে, গত ১৩ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৩টার দিকে বটিয়াঘাটা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল হাটবাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনুপম মহলদার (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। নিভান মহলদারের ছেলে অনুপম বটিয়াঘাটা থানায় সম্প্রতি দায়ের করা একটি হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি।
পুলিশের অপরাধমূলক তথ্যাবলি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গ্রেপ্তারকৃত অনুপম মহলদার একজন পেশাদার অপরাধী এবং তার বিরুদ্ধে এর আগেও তিনটি পৃথক হত্যা মামলার প্রমাণ রয়েছে। ২০১৯ সালের ৭ মার্চ খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে হাবিবুর রহমান সবুজ নামের এক যুবকের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর দিন খুলনা থানায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল, তাতে অনুপমের নাম ছিল। এর আগে ২০১৩ সালে মেট্রোপলিটন পুলিশের খালিশপুর থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলা এবং ২০১৪ সালে খুলনা জেলার ফুলতলা থানায় দায়ের করা আরও একটি হত্যা মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এছাড়াও ২০০৯ সালে বটিয়াঘাটা থানায় দায়ের করা এক চুরির মামলায় আদালত অনুপমকে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিলেন।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মাদকের বিস্তার রোধ ও সড়ক শৃঙ্খলায় এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।


