খুলনা: খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলায় তথাকথিত ‘রফিক বাহিনী’র প্রধান রফিকের দখলে থাকা একটি কৃষি খামার থেকে পিস্তলের ৬টি ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড তাজা গুলি, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং দেশীয় অস্ত্রসহ একাধিক সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের বিরাট গ্রামে অবস্থিত ওই কৃষি খামারের ঘেরের একটি টিনের ঘর থেকে এসব অস্ত্র ও ব্যবহৃত সামগ্রী জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিরাট গ্রামের ওই মৎস্য ঘেরের ভেতর অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং অবৈধ অস্ত্র মজুদের গোপন সংবাদ পায় পুলিশ। তথ্যের ভিত্তিতে বটিয়াঘাটা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে ঘেরের চারপাশ ঘিরে ফেলে। পরবর্তীতে ঘরের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে পিস্তলের ৬টি খালি ম্যাগাজিন ও ১ রাউন্ড তাজা গুলির পাশাপাশি রফিকের নিজের নামে থাকা পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন এবং বেশ কিছু বিপজ্জনক দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাটি ঘটেছে এলাকায় পর পর কয়েকটি তীব্র রাজনৈতিক ও অপরাধমূলক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে। এর আগে গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় এবং পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে পৃথক এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে দুই যুবদল নেতা মারাত্মকভাবে আহত হন। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুই রাজনৈতিক নেতা গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে পুরো বটিয়াঘাটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে ভীতির সৃষ্টি হয়।
পরপর দুটি গুলির ঘটনার জেরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শিথিলতার অভিযোগে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বটিয়াঘাটা থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসানকে তাৎক্ষণিকভাবে থানা থেকে প্রত্যাহার করে খুলনা জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে পাইকগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম মিজানুর রহমানকে স্থানান্তরিত করে বটিয়াঘাটা থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
নতুন দায়িত্বভার গ্রহণের মাত্র এক দিনের মাথায় নতুন ওসির নির্দেশে এলাকায় অপরাধী চক্র দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জোর অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে রফিকের আস্তানায় এই সফল অভিযান চালানো হলো।
অভিযানের সার্বিক বিষয় নিশ্চিত করে বটিয়াঘাটা থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, রফিকের ঘেরের ভেতর থেকে পিস্তলের ৬টি ম্যাগাজিন, গুলি ও তার নিজস্ব পরিচয়পত্রসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে রফিকসহ তার সহযোগীরা আত্মগোপনে রয়েছে। তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এলাকায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।


