ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নানার বাড়িতে এসে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছে এক শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরী। গাছের ঝরা পাতা কুড়াতে গিয়ে প্রতিবেশী এক যুবকের হাতে সে ধর্ষণের শিকার হয় বলে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর নানা বাদী হয়ে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে সংশ্লিষ্ট পাগলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর বাড়ি পার্শ্ববর্তী জেলা কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সাহেদল গ্রামে। কয়েক দিন আগে সে গফরগাঁও উপজেলার পাঁচবাগ ইউনিয়নের উত্তর হারিনা গ্রামে নিজ নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে। সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কিশোরীটি বাড়ির পেছনের ভিটা থেকে শুকনো ঝরা পাতা কুড়ানোর জন্য বের হয়। সে সময় জনমানবহীন পরিবেশের সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী রফিকুল ওরফে লম্বা রফিকের ছেলে সাব্বির তাকে কৌশলে ফুসলিয়ে কাছে ডাকে। পরবর্তীতে তাকে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত ও নির্জন ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
ঘটনার পর কিশোরীটি কাঁদাতে কাঁদাতে স্বজনদের কাছে এসে বিষয়টি খুলে বলে। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের খবর দেন এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাতে ভুক্তভোগীর নানা সরাসরি থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত সাব্বিরকে একমাত্র আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দেন, যা পরে নিয়মিত মামলা হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়।
এ বিষয়ে পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও নিশ্চিত করেন যে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সাব্বির পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে।
গ্রামাঞ্চলে পরিত্যক্ত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানগুলোর সুযোগ নিয়ে এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকার সচেতন মানুষ ও মাতব্বররা অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।


