গাজীপুরের টঙ্গীতে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডারের পাইপে লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাঁদের ১৬ বছর বয়সী মেয়ে তানিশা গুরুতর দগ্ধ হয়ে একই হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নিহত দম্পতি হলেন লাল চান মিয়া (৬০) ও তাঁর স্ত্রী নাসিমা (৫০)। লাল চান মিয়া ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার কুড়িপাড়া এলাকার মান্নাছ আলীর ছেলে। তাঁরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানার ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের মুদাফা এলাকায় মাস্টার বাড়ি-সংলগ্ন ফখরুল হাসানের বাসায় ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৭টার দিকে ওই বাসায় রান্নার প্রস্তুতির সময় গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত পাইপে লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ঘরে থাকা লাল চান মিয়া, তাঁর স্ত্রী নাসিমা ও মেয়ে তানিশা গুরুতর দগ্ধ হন। আকস্মিক এই ঘটনায় আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে প্রতিবেশীরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি ও দগ্ধ হওয়ার গুরুতর পরিস্থিতির কারণে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তবে চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বুধবার রাত ৯টার দিকে লাল চান মিয়া ও নাসিমার মৃত্যু হয়। তাঁদের মেয়ের অবস্থা তখনও আশঙ্কাজনক ছিল বলে জানা গেছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান দম্পতির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মেয়ে একই হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গ্যাসের পাইপে লিকেজ থেকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা
রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডারের পাইপে ছিদ্র বা সংযোগস্থলে ত্রুটি থাকলে গ্যাস জমে অগ্নিকাণ্ড কিংবা বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বন্ধ ঘরে গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে সামান্য আগুনের উৎস বা বৈদ্যুতিক স্পার্ক থেকেও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে সিলিন্ডার, রেগুলেটর, পাইপ ও সংযোগস্থল নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।
গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে আগুন জ্বালানো, দিয়াশলাই ব্যবহার কিংবা বৈদ্যুতিক সুইচ চালু বা বন্ধ করা থেকে বিরত থাকতে হয়। নিরাপদ হলে গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করে দরজা-জানালা খুলে বাইরে চলে যেতে হবে এবং বাইরে থেকে সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবা বা দক্ষ কারিগরের সহায়তা নিতে হবে। তবে গ্যাসের ঘনত্ব বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার না করে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
টঙ্গীর মুদাফা এলাকার এই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হওয়া এবং তাঁদের মধ্যে দুজনের প্রাণহানি গৃহস্থালিতে গ্যাস ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভাড়া বাসায় বসবাসকারী পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে সিলিন্ডারের মান, পাইপের অবস্থা এবং সংযোগ যথাযথভাবে স্থাপন করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তবে এই ঘটনায় ঠিক কী কারণে পাইপে লিকেজ হয়েছিল, বিস্ফোরণের আগে গ্যাস জমে ছিল কি না কিংবা সংযোগে অন্য কোনো ত্রুটি ছিল কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতভাবে বলার সুযোগ নেই।
একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য ও তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুতে স্বজনদের ওপর নেমে এসেছে গভীর শোক। অন্যদিকে, গুরুতর দগ্ধ কিশোরী তানিশার চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। তাঁর শারীরিক অবস্থার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশিত হয়নি।


