গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানার জরুন এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে হাসিনা আক্তার (১৬) নামে এক পোশাক শ্রমিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে জরুন এলাকার মৃত বাবুল মিয়ার টিনশেড বাসার বারান্দার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাসিনা আক্তার পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থানার আমগজ বিলাসী তিস্তাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের হাসেন আলীর মেয়ে। প্রায় চার বছর আগে খালা-খালুর সঙ্গে গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় এসে বসবাস শুরু করেন। সেখানে থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই দিন ধরে হাসিনা শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি ওই সময় কারখানায় কাজে যাননি। সোমবার বিকেল পর্যন্তও তিনি বাসায় ছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে স্বজনরা তার ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। বেশ কিছুক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় তাদের সন্দেহ হয়।
পরে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে স্বজনরা ঘরের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় একপর্যায়ে জানালা ভেঙে ভেতরে তাকানো হয়। তখন সিলিংয়ের একটি আড়ার সঙ্গে হাসিনাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। বিষয়টি দ্রুত পুলিশকে জানানো হলে রাত ৯টার দিকে কোনাবাড়ী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হাসিনার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হয়নি। তিনি অসুস্থ ছিলেন—এ তথ্য পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হলেও, অসুস্থতার সঙ্গে মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পরই স্পষ্ট হতে পারে। পুলিশও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে পোশাক কারখানায় কাজ করতেন হাসিনা। কয়েক বছর ধরে পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে গাজীপুরে বসবাস করছিলেন তিনি। ঘটনার পর তার স্বজনদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পুলিশের তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের ফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে পরিবার ও স্থানীয়রা।


