খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই মে ২০২৬, ৮:৩৮ এএম
গাজীপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এই দুই শিশুর মৃত্যু ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রামক রোগের বিস্তার নিয়ে।
মৃত শিশুদের মধ্যে একজন গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে মো. রাইয়ান, বয়স ৯ মাস। অপরজন শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে মো. সিফাত, বয়স ৫ মাস। উভয় শিশুই জ্বর, সর্দি, কাশি এবং শরীরে ফুসকুড়ি–জাতীয় উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল বলে জানা যায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সংক্রমণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল আটটা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই শিশুর মৃত্যু ঘটে। একই সময়ে গাজীপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে আরও শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৪৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ২১ জন।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, মৃত দুই শিশুই হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে এসেছিল এবং তাদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর ছিল। তবে পরীক্ষাগারে সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার আগেই তাদের মৃত্যু হয়।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন মামুনুর রহমান জানান, জেলায় এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৯১ জন চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ১৩১ জনের ক্ষেত্রে সংক্রমণ নিশ্চিত করা গেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং আক্রান্তদের চিকিৎসা ও আলাদা ব্যবস্থাপনায় রাখা হচ্ছে।
হাম একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং সারা শরীরে ফুসকুড়ি দেখা যায়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া | ৫৯১ জন |
| সংক্রমণ নিশ্চিত | ১৩১ জন |
| বর্তমানে ভর্তি রোগী | ৪৭ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি | ২১ জন |
| মৃত্যুর ঘটনা | ২ জন |
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত টিকা গ্রহণ, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং আক্রান্তদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়ার মাধ্যমে এ ধরনের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়িয়েছে এবং অভিভাবকদের শিশুদের প্রতি বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য