খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। তিনি দাবি করেছেন, ওই তরুণী নিজেই গাজী নজরুল ইসলামের সেবা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এবং অন্য কোথাও বিয়ে না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। তবে ঘটনাটিকে তিনি সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করলেও সরাসরি অনৈতিক হিসেবে দেখছেন না।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৫ নম্বর শিবপুর ইউনিয়নের গোটাঘাটা মসজিদে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও আলেম-উলামাদের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবং এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান নিয়েও কথা বলেন।
মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বড় স্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। ওই তরুণীর পক্ষ থেকে একটাই ইচ্ছার কথা জানানো হয়েছিল—তিনি অন্য কোথাও বিয়ে করতে চান না এবং জীবনের বাকি সময় গাজী নজরুল ইসলামের সেবা করতে চান। তার এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবারের পক্ষ থেকে নিজেদের বাড়িতেই বিয়ের আয়োজন করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এই ঘটনাকে পুরোপুরি সমর্থন না করে মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, বিষয়টি সামাজিকভাবে বিতর্ক তৈরি করেছে এবং সেই কারণেই এর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রভাব পড়েছে। তার বক্তব্য, ঘটনাটি ‘অসামাজিক’ হলেও ‘অনৈতিক’ ছিল না। একই সঙ্গে তিনি জানান, সামাজিক বিতর্ক এবং সংগঠনের নীতিগত অবস্থানের কারণে জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। তার সংসদ সদস্য পদও বাতিলের পথে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনাকে সাধারণ ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। এ প্রসঙ্গে তিনি মসজিদের ইমামের উদাহরণ টেনে বলেন, একজন সাধারণ মানুষের ভুল এবং একজন ধর্মীয় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির ভুলকে একইভাবে মূল্যায়ন করা যায় না। তার মতে, সমাজে কোনো ব্যক্তির অবস্থান, দায়িত্ব ও গ্রহণযোগ্যতার ওপর নির্ভর করে তার কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নের মাত্রাও বদলে যায়।
তিনি বলেন, একজন ইমামের কাছ থেকে যে ধরনের আচরণ প্রত্যাশা করা হয়, একইভাবে একজন সংসদ সদস্যের কাছ থেকেও আরও বেশি দায়িত্বশীলতা ও সংযম আশা করা হয়। সেই জায়গা থেকে গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনায় সংগঠন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দল থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদও আর বহাল থাকবে না।
মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক আরও বলেন, অনৈতিক বা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী কোনো আপস করে না। তার বক্তব্যে একদিকে ঘটনাটির সামাজিক বিতর্কের বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট তরুণীর ব্যক্তিগত ইচ্ছাকেও তিনি আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরেছেন।
গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর তার রাজনৈতিক অবস্থান এবং সংসদ সদস্য পদ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, অনুষ্ঠানে দেওয়া মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের বক্তব্য সেই আলোচনাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে একজন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত আচরণ, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা—এই তিনটি বিষয় কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত, তারই প্রতিফলন দেখা গেছে তার বক্তব্যে।
অনুষ্ঠানে শিবপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মনিরুজ্জামান সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা শাহাদাত হোসাইন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও উপজেলা শুরা সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেন এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শহীদ হাসানসহ স্থানীয় নেতারা।
তবে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে আলোচিত ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যই বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের বক্তব্যে যেমন সংশ্লিষ্ট তরুণীর নিজের সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরা হয়েছে, তেমনি একজন সংসদ সদস্যের কাছ থেকে প্রত্যাশিত আচরণ ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে ঘটনাটি ব্যক্তিগত জীবনের গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজনৈতিক জবাবদিহি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রশ্নেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।