নাটোরের গুরুদাসপুরে বাস ও গরুবাহী নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত সাতজন। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের গুরুদাসপুর নয়াবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন বড়াইগ্রাম উপজেলার পৌরসদরের লক্ষিকোল মহল্লার আব্দুর রহমান (৭০), একই উপজেলার ধামানিয়া মহল্লার দুই ভাই আক্কাছ আলী (৫৯) ও জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৭)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে একটি গরুবাহী নসিমন বনপাড়া এলাকা থেকে চান্দাইকুনা হাটের উদ্দেশে যাচ্ছিল। নসিমনটি নয়াবাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। বাসটি ঢাকা থেকে আসছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সংঘর্ষের পর নসিমনে থাকা যাত্রীরা ছিটকে পড়েন এবং কয়েকজন গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। ঘটনাস্থলেই আব্দুর রহমানের মৃত্যু হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় আক্কাছ আলী ও তার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর হোসেনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। নিহতদের মরদেহ পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় আহত আরও কয়েকজনকে গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে নতুন কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
দুর্ঘটনার পর বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। সড়কে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন থাকায় উভয় দিকে যানবাহনের চাপ তৈরি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মহাসড়কের ব্যস্ত অংশে বড় যানবাহন ও ধীরগতির স্থানীয় যানবাহন চলাচলের কারণে প্রায়ই ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে হাটের দিনগুলোতে গরু ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে নসিমনসহ বিভিন্ন স্থানীয় যানবাহনের ব্যবহার বেড়ে যায়। এসব যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং মহাসড়কে বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
তবে এই দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্তব্য