খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ২:১০ পিএম
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় এক গৃহবধূর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় থাকার অভিযোগে শরিফুল ইসলাম মোড়ল (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়ভাবে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত বলে জানিয়েছেন দলটির স্থানীয় নেতারা। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে তাকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার টাউনশ্রীপুর গ্রামের উত্তরপাড়ায়। ঘটনার পর রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। তবে ভিডিওটির সত্যতা ও এর প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরিফুল ইসলাম মোড়ল পার্শ্ববর্তী আজিজপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি মোজাম্মেল মোড়লের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, টাউনশ্রীপুর উত্তরপাড়ার এক গৃহবধূর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। সোমবার রাতে তিনি ওই নারীর বাড়িতে প্রবেশ করলে বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজনের নজরে আসে। পরে তারা বাড়িটি ঘিরে ফেলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে তারা ওই ঘরের দরজা খুলে বা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং শরিফুল ইসলাম ও ওই গৃহবধূকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন। এরপর দুজনকেই কিছু সময়ের জন্য আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শরিফুল ইসলামকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবলুর রহমান বলেন, রাত পর্যন্ত এলাকাবাসী দুজনকে আটকে রেখেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শরিফুল ইসলাম স্থানীয়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠনের দায়িত্বও পালন করতেন।
দেবহাটা ইউনিয়ন জামায়াতের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুস সালাম মাস্টার বলেন, শরিফুল ইসলাম তাদের সংগঠনের একজন সক্রিয় কর্মী। তবে ঘটনার সময় তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। পরে লোকমুখে ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
দেবহাটা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রেজাউল করিম জানান, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একজনকে স্থানীয়রা আটকে রেখেছেন—এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে শরিফুল ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে কোনো ভিডিও বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে এককভাবে ঘটনার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না; অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে আইনগত প্রক্রিয়া ও তদন্তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার রাজনৈতিক অঙ্গনেও এর আগে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এর আগে একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের খবর প্রকাশ্যে আসে। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান ঘটনার সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এখন মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গৃহবধূর বিষয়ে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মন্তব্য