গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে বহুগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন দুলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মুকসুদপুর থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বহুগ্রাম ইউনিয়নে নিজ বাড়ি থেকে দেলোয়ার হোসেন দুলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, দেলোয়ার হোসেন দুলাল মিয়া নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন—এমন তথ্য পাওয়ার পর বুধবার রাতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম শেষে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বহুগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দুলাল মিয়া বাড়িতে অবস্থান করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) একটি সমাবেশকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে নাশকতার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় দেলোয়ার হোসেন দুলাল মিয়ার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন দুলাল মিয়া কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার পক্ষের বক্তব্য এখনো জানা যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং তাদের ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। আদালতে পাঠানোর পর দেলোয়ার হোসেন দুলাল মিয়ার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
দেলোয়ার হোসেন দুলাল মিয়া বহুগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। তার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মামলাটির তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের পরবর্তী আদেশের ওপর এখন দেলোয়ার হোসেন দুলিয়া মিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে।


