গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে গভীর রাতে এক বিকাশ এজেন্টের পথরোধ করে ধারালো অস্ত্রের মুখে সাড়ে ৫ লাখ টাকাসহ মোবাইল ফোন ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘটে শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মহাসড়কের জেপি ফিলিং স্টেশনের সামনে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় শামীম শেখ (৩০) নামে এক ছিনতাইকারীকে ধরে ফেলে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার শামীম গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের রুদ্রনগর গাওছাপাড়া এলাকার ভোলা শেখের ছেলে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী গোবিন্দগঞ্জ চারমাথা মোড়ের ডাচ-বাংলা ফাস্ট ট্র্যাকের পাশে বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা পরিচালনা করেন। প্রতিদিনের মতো রাতে দোকান বন্ধ করে তিনি হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস এসে হুট করে তার পথরোধ করে দাঁড়ায়। গাড়ি থেকে চারজন দুর্বৃত্ত নেমে তাকে হঠাৎ আক্রমণ করে এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এরপর তারা ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার কাছে থাকা নগদ সাড়ে ৫ লাখ টাকা, একটি স্মার্টফোন, একটি বাটন ফোন এবং দোকানের চাবিসহ পুরো ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়।
ছিনতাইয়ের ঘটনা চলাকালে আইয়ুব আলীর চিৎকারে পার্শ্ববর্তী জেপি ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী ও স্থানীয় পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে ছিনতাইকারীরা তড়িঘড়ি করে তাদের সঙ্গে আনা মাইক্রোবাসে উঠে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে এ সময় শামীম শেখ দৌড়ে পালাতে না পারায় স্থানীয় জনতা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শামীমকে হেফাজতে নেয়।
রবিবার (৪ অক্টোবর ২০২৬) ভুক্তভোগী আইয়ুব আলী বাদী হয়ে গ্রেপ্তার শামীমসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করেন। পুলিশ একই দিন সন্ধ্যার আগে শামীমকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিচারিক আদালতে পাঠায়। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ছিনতাইকৃত অর্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার কর্মকর্তা জানান, জড়িত সকল আসামির বাড়ি এই উপজেলাতেই। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ছিনতাইকারী চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে আইয়ুব আলীর দোকান বন্ধ করার সময় ও যাতায়াতের পথের ওপর তীক্ষ্ণ নজরদারি চালিয়ে আসছিল। সঠিক সুযোগ বুঝে মহাসড়কের ফাঁকা জায়গায় তার পথরোধ করে তারা এই ঘটনা ঘটায়। লুণ্ঠিত অর্থ ও মোবাইল ফোন উদ্ধারসহ পলাতক অন্য তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


