সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে কীটনাশক পান করে বাবা ও তাঁর ১৩ বছর বয়সী মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) উপজেলার শুভগাছা ইউনিয়নের তারাকান্দি হাওলদার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মেয়েটির মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার বাবাও।
নিহত ব্যক্তির নাম রাম প্রসাদ হালদার (৩০)। তিনি তারাকান্দি গ্রামের সোনা প্রসাদের ছেলে এবং পেশায় একজন মৎস্যজীবী ছিলেন। তাঁর মেয়ে কিরণ মালা স্থানীয় বাংলাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
থানা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাম প্রসাদ ও তাঁর মেয়ে তরলজাতীয় কীটনাশক পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাঁদের কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই কিরণ মালার মৃত্যু হয়। পরে বিকেলের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাম প্রসাদ।
প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহকে এ ঘটনার কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, রাম প্রসাদের সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হাওসি রাণীর দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ঘটনার কয়েক দিন আগেও তাঁদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হয়। এ কারণে রাম প্রসাদ কয়েক দিন ধরে বাড়ির ঘরের পরিবর্তে বারান্দায় ঘুমাতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে বাবা ও মেয়ে এলাকার দুর্গাপূজার মণ্ডপে দীর্ঘ সময় কাটান। পরে গভীর রাতে তাঁরা বাড়িতে ফেরেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর কোমলপানীয়ের সঙ্গে ইঁদুর নিধনের গ্যাস ট্যাবলেট মিশিয়ে তাঁরা পান করেন। তবে ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে অল্প বয়সী এক শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
কাজিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর বাবা ও মেয়ের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন থেকে মৃত্যুর বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে। তবে এ ঘটনায় পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি সামনে এলেও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ।


