খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই আগস্ট ২০২৬, ১:১৯ এএম
দেশের গ্রামাঞ্চল বা মফস্বলের দীর্ঘকালীন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব এবার শুরু হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। গত বুধবার (১২ আগস্ট) রাত থেকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় টানা লোডশেডিংয়ের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও কর্মঘণ্টা শেষে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকরা নিজেদের এই দুর্ভোগের কথা প্রকাশ করছেন। ফারিন আহমেদ নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী বর্তমান পরিস্থিতি উল্লেখ করে লেখেন, ‘‘গ্রাম ছেড়ে লোডশেডিং এখন ঢাকায়’’। অন্যদিকে, সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে রাতে বাড়ি ফিরে লোডশেডিংয়ের মুখে পড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক আতাউর রহমান। ফেসবুক ওয়ালে তিনি উল্লেখ করেন, রাত সোয়া ১১টায় বাসায় ফেরার পর বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু হওয়ায় তিনি অস্বস্তিকর যন্ত্রণায় পড়েছেন। শুধু সাধারণ নাগরিকই নন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও ট্রলের মাধ্যমেও এই বিদ্যুৎ সংকট এবং জনদুর্ভোগ নিয়ে তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে।
লোডশেডিং তীব্র হওয়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় জ্বালানি ঘাটতি এবং ভারতের আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আমদানি হ্রাস পাওয়ার বিষয়টিকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এর ফলে সম্প্রতি দেশজুড়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে, যার বড় প্রভাব পড়ছে গ্রামাঞ্চলগুলোতে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি একপর্যায়ে ৩,৬৭১ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল। পরবর্তীতে ১২ আগস্ট রাত ১টায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩,১৯৪ মেগাওয়াট এবং পরদিন সকাল ৮টায়ও ঘাটতি ছিল ২,৩১৪ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিডের এই ঘাটতির কারণে দেশের অধিকাংশ গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুতের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।
রাজধানী ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ডেসকো (DESCO) এবং ডিপিডিসি (DPDC) এলাকায় এই জাতীয় বিদ্যুৎ ঘাটতির সার্বিক প্রভাব তুলনামূলক কম হলেও ঢাকার বিভিন্ন বাসাবাড়িতে বুধবার থেকে দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। শহর ও গ্রাম—উভয় অঞ্চলেই বর্তমানে এই জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ ঘাটতির প্রত্যক্ষ প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
মন্তব্য