খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ২:৫০ পিএম
গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালানোর সময় মাঝ–আকাশে দুটি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে দুই ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। রোববার রাজধানী এথেন্সের প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অ্যাটিকা–বোয়েটিয়া সীমান্ত এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের একজন ডেনমার্কের পাইলট এবং অন্যজন গ্রিসের ফায়ার সার্ভিসের একজন সমন্বয় কর্মকর্তা বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার সময় দুটি হেলিকপ্টারই দাবানল নিয়ন্ত্রণে সক্রিয়ভাবে কাজ করছিল। প্রাথমিকভাবে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার অন্যটির প্রোপেলারে আঘাত করে। সংঘর্ষের পর একটি হেলিকপ্টারে আগুন ধরে যায় এবং সেটি একটি গিরিখাতে গিয়ে বিধ্বস্ত হয়। অপর হেলিকপ্টারটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নিচু গাছপালায় আচ্ছাদিত একটি এলাকায় জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
গ্রিসের ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি বেল হেলিকপ্টারই অস্ট্রেলীয় কোম্পানি ম্যাকডার্মট এভিয়েশনের কাছ থেকে লিজ নেওয়া হয়েছিল। দাবানলের আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বিমান ও হেলিকপ্টারের মতো আকাশপথের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। সেই অভিযানের মধ্যেই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
দুটি হেলিকপ্টারে মোট চারজন ক্রু সদস্য ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একটি হেলিকপ্টারের ব্রিটিশ পাইলট এবং গ্রিসের একজন সমন্বয় কর্মকর্তা জীবিত রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর তাঁদের উদ্ধার করা হয়। অন্য হেলিকপ্টারের দুই ক্রুকে প্রথমে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও পরে তাঁদের মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেলেও চার ক্রুর পূর্ণ নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
দুর্ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গ্রিসজুড়ে বেল মডেলের সব হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। গ্রিসের বেসামরিক সুরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর প্রচলিত নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ ও উড্ডয়ন-সংক্রান্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, গ্রিসে চলতি সপ্তাহে বেশ কয়েকটি এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। আগুনের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দেশটির বিভিন্ন অংশে দাবানলের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। শুধু গ্রিস নয়, ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশও একই সময়ে তীব্র তাপপ্রবাহ ও দাবানলের মুখোমুখি হয়েছে। এতে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার তৎপরতায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার সাধারণত দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত পৌঁছানো এবং আগুনের ওপর থেকে পানি বা অগ্নিনির্বাপণ উপকরণ ফেলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এমন একটি দুর্ঘটনা চলমান অগ্নিনির্বাপণ অভিযানে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আগুনের বিস্তার ঠেকাতে যখন দ্রুত আকাশপথে অভিযান চালানো প্রয়োজন, তখন উড্ডয়ন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।
দাবানল নিয়ন্ত্রণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে নিয়োজিত কর্মীদের নিরাপত্তা এবং আকাশপথে একাধিক উড়োজাহাজ পরিচালনার সমন্বয় নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। কর্তৃপক্ষের তদন্তে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ, দুই হেলিকপ্টারের অবস্থান এবং উড্ডয়ন পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য