আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর ও নদী অববাহিকায় নৌযান চলাচল নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে। বিশেষ করে ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা ব্যাপকভাবে কমতে পারে, যা নৌযান পরিচালনার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। নৌযান মালিক, নাবিক এবং যাত্রীদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোতে ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা হ্রাসের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নদী অববাহিকায় দৃষ্টিসীমা প্রায় ৪০০ মিটার হতে পারে, যা কিছু এলাকায় আরও কম হতে পারে। এই অবস্থায় দ্রুত বা অযত্নে নৌযান চালানো বিপজ্জনক হতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘন কুয়াশার কারণে নৌযান চলাচলের জন্য কোনো বিশেষ সংকেত বা সতর্কতা চিহ্ন দেখানোর প্রয়োজন নেই। তবে নৌযানগুলোকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
-
নাবিকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা
-
ধীরে ধীরে নৌযান চালানো এবং দৃষ্টিসীমা অনুযায়ী নেভিগেশন করা
-
প্রয়োজনে নৌযান থামিয়ে রাখার প্রস্তুতি রাখা
-
নদী তীরবর্তী এলাকার যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া
নিচের টেবিলটি ঘন কুয়াশার কারণে প্রভাবিত অঞ্চলের তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করছে:
| জেলা/অঞ্চল | দৃষ্টিসীমা অনুমান (মিটার) | কুয়াশার তীব্রতা | সতর্কতা প্রয়োজনীয়তা |
|---|---|---|---|
| ঢাকা ও আশেপাশের নদী | ৩৫০–৪০০ | হালকা থেকে মাঝারি | উচ্চ |
| চট্টগ্রাম অঞ্চলের নদী | ৪০০–৫০০ | মাঝারি | মাঝারি |
| রাজশাহী ও বরিশাল | ৩৫০–৪৫০ | হালকা থেকে মাঝারি | উচ্চ |
| খুলনা অঞ্চলের নদী | ৩৫০–৪০০ | ঘন | উচ্চ |
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে যে, ঘন কুয়াশার সময় দৃষ্টিসীমা হঠাৎভাবে হ্রাস পেতে পারে, যার ফলে নাবিকরা দিকনির্দেশনা হারাতে পারেন। নদীতে চলাচলের সময় অপ্রয়োজনীয় জোরাজুরি বা দ্রুতগতি বিপজ্জনক হতে পারে। যাত্রীদেরও সতর্ক থাকা এবং যাত্রাপথে নাবিকের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।
নিরাপদ নৌযাত্রার জন্য দেশের নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে নাবিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, নদীর উপর বা তীরে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে কুয়াশার সময় নদীর তীরে যাওয়ার এড়াতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া সংস্থা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির পরিবর্তন অনুসারে নতুন সতর্কবার্তা বা আপডেট প্রকাশ করতে পারে।
ঘন কুয়াশা সাধারণত শীতকালীন সময় বাড়তে পারে এবং নদী অববাহিকায় নাবিক ও যাত্রীদের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে। তাই, সময়মতো সতর্ক হওয়া এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মানা নৌযাত্রার জন্য অপরিহার্য।



