চট্টগ্রামে ডেঙ্গু এবং হামের উপসর্গে একদিনে শিশু ও নারীসহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়। বুধবার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিন ও কর্মকর্তা সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুই বছর পাঁচ মাস বয়সি এক শিশু রয়েছে। অন্য দুজন যথাক্রমে ৪২ বছর ও ৫১ বছর বয়সি নারী। নিহত শিশুটি এবং ৪২ বছর বয়সি নারী সীতাকুণ্ড উপজেলার বাসিন্দা, আর ৫১ বছর বয়সি নারী সাতকানিয়া উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে আরও দুই শিশু। এদের মধ্যে একজন চার মাস বয়সি শিশু, যার বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়। অন্য শিশুটির বয়স সাড়ে পাঁচ বছর, তার বাড়ি চট্টগ্রামের ডবলমুরিং এলাকায়।
একদিনে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে এমন প্রাণহানির ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলাজুড়ে জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ প্রবল হয়ে উঠেছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী আক্রান্ত ও মৃত্যুর সার্বিক চিত্র নিচে সারণিতে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় ও ডেটার বিবরণ | সংখ্যা/পরিসংখ্যান |
| ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু রোগে মৃত্যু | ৩ জন |
| ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মৃত্যু | ২ জন |
| ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যু | ৫ জন |
| চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু | ৩৯ জন |
| চলতি বছর ডেঙ্গু রোগে মোট আক্রান্ত | ৭,৪০৬ জন |
| ২৪ ঘণ্টায় নতুন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি | ৮৪ জন |
| চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তকৃত হাম আক্রান্ত | ৮৩৭ জন |
| চলতি বছর হামে নিশ্চিত মৃত্যু | ৩ জন |
| চলতি বছর হামের উপসর্গে মোট মৃত্যু | ৫০ জন |
| ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন ভর্তি | ৮১ জন |
| ২৪ ঘণ্টায় নগরীর নতুন আক্রান্ত (হামের উপসর্গ) | ৭৭ জন |
| ২৪ ঘণ্টায় উপজেলার নতুন আক্রান্ত (হামের উপসর্গ) | ৪ জন |
সংক্রামক রোগ দুটির বিস্তার রোধে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ও শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির আহ্বান জানাচ্ছন চিকিৎসকেরা। পাশাপাশি এডিস মশা নিধন অভিযান জোরদার ও শিশুদের যথাসময়ে হামের টিকাদান কর্মসূচি শতভাগ সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পরিস্থিতি সার্বিক নিয়ন্ত্রণে রাখা ও চিকিৎসা জোরদারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


