চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এক বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রেঞ্জের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং সদস্য, চিহ্নিত ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিসহ মোট ৮৭১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিশেষ অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক অরাজকতা রোধ ও সর্বসাধারণের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই চট্টগ্রাম রেঞ্জের অধীনে সমন্বিত এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ৮৭১ জনের মধ্যে পরোয়ানাভুক্ত আসামির পাশাপাশি বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিরা রয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিয়মিত মামলায় ৭০ জন, পূর্ববর্তী মামলায় ৫৮ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ২৯ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ৬ জন এবং ১৫১ ধারা ও অন্যান্য আইনের অধীনে ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পাশাপাশি সাধারণ পরোয়ানাভুক্ত ৮৮ জন এবং বিভিন্ন মেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত ২০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জননিরাপত্তার জন্য বড় রূপ নেওয়া কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে এই অভিযানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম রেঞ্জ জুড়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে মোট ৪৮কে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে অপরাধের ধরন বিবেচনা করে এবং শুধরে যাওয়ার সুযোগ দিতে এদের মধ্যে ৩৪১ জনকে অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ১৪৫ জনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে পরিচালিত অভিযানে মোট ১০০ জন মাদক কারবারি ও সেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি মাদক বিক্রির সাথে জড়িত থাকায় ২৯ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়েছে এবং ৭১ জন মাদকসেবীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ৬ হাজার ৩০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়। এ সময় পুলিশ বাদী হয়ে ১৮টি নতুন মাদক মামলা রুজু করেছে। একই অভিযানে ২৪ হাজার ৭০৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১ কেজি ৪০ গ্রাম গাঁজা এবং ৭ লিটার চোলাই মদ জব্দ করা হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের বিভিন্ন জেলা থেকে এমন নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৬ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এলাকাভিত্তিক হিসাবে ফেনীতে ৯ জন, চট্টগ্রামে ৩ জন, কুমিল্লায় ২ জন এবং কক্সবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১ জন করে সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের আওতাধীন ১১টি জেলায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে জেলাভিত্তিক গ্রেপ্তারের তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:
| জেলার নাম | গ্রেপ্তারের সংখ্যা |
| কুমিল্লা | ১৯৩ জন |
| চট্টগ্রাম | ৭৮ জন |
| চাঁদপুর | ৭৭ জন |
| লক্ষ্মীপুর | ৪৬ জন |
| কক্সবাজার | ২৩ জন |
| রাঙ্গামাটি | ১৮ জন |
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ১৭ জন |
| নোয়াখালী | ১২ জন |
| ফেনী | ১১ জন |
| খাগড়াছড়ি | ৬ জন |
| বান্দরবান | ৫ জন |
চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে অপরাধীদের তৎপরতা নিষ্ক্রিয় করতে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন শান্তি-শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ রাখতে এই ধরনের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।


