রাজধানীর নিউমার্কেটের তিনটি দোকান থেকে এক হাজার ১০০টিরও বেশি চাপাতি, সামুরাই ও অন্যান্য ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অস্ত্রগুলো গোপনে নির্দিষ্ট ক্রেতাদের কাছে এবং হোম ডেলিভারির মাধ্যমে সারাদেশে বিক্রি করা হতো, যা ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
শনিবার (৯ আগস্ট) রাতে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ আর্মি ক্যাম্পে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনীর ২৩ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিম আহমেদ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, এই বৃহৎ আকারের ধারালো অস্ত্রগুলো সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হতো না। বরং, অসাধু ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের কাছে হোম ডেলিভারি দিতেন, যাতে পথে পুলিশের তল্লাশিতে ধরা পড়ার ভয় না থাকে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী জানতে পারে, এসব চাপাতি ও সামুরাই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সরবরাহ করা হচ্ছে, এমনকি ভাড়াও দেওয়া হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিম আহমেদ আরও বলেন, ঢাকা শহরে ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ডে এই ধরনের অস্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া অনেক অপরাধী জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে তারা এসব ধারালো অস্ত্র বিভিন্ন দোকান থেকে সংগ্রহ করে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও ভাইরাল হওয়া ভিডিওতেও ছিনতাই, জখম ও খুনের মতো ঘটনায় এসব অস্ত্রের ব্যবহার দেখা গেছে।
ব্রিফিংয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিম আহমেদ ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি অনুরোধ জানান, যাতে কেউ এই ধরনের ধারালো অস্ত্র বিক্রি না করেন। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এগুলো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে পড়ছে এবং সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, যা বন্ধ করা জরুরি। সাধারণ জনগণের প্রতিও তিনি আহ্বান জানান, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। যদি কেউ অবৈধভাবে এই ধরনের অস্ত্রের ব্যবসা করে, তাহলে নিকটস্থ আর্মি ক্যাম্পে খবর দেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ করেন। গ্রেপ্তারকৃত ৯ জনকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং এ বিষয়ে আরও তদন্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।
খবরওয়ালা/টিএসএন



