ভারতের বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ.পি. সিং চীনের সঙ্গে বিতর্কিত হিমালয় সীমান্তের কাছে অবস্থিত নতুন সামরিক বিমানঘাঁটিতে একটি পরিবহন বিমান অবতরণ করিয়ে এর উদ্বোধন করেছেন। বৃহস্পতিবার এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
১৩,০০০ ফুট (প্রায় ৪ কিলোমিটার) উচ্চতায় লাদাখের মুধ-ন্যোমা এলাকায় অবস্থিত এই ঘাঁটিটি যুদ্ধবিমান পরিচালনাযোগ্য। এটি অঞ্চলের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি এবং চীন সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
নতুন ঘাঁটিটি তৈরি করার পদক্ষেপটি দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যকার বরফ গলতে শুরু করার প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয় এবং ২০২৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চীন সফর সম্পন্ন হয়।
অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল সঞ্জীব কাপুর মন্তব্য করেছেন, “লাদাখে এই নতুন বিমানঘাঁটি, যা যুদ্ধবিমান পরিচালনাযোগ্য, চীন ও পাকিস্তানের জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।” তিনি উল্লেখ করেছেন, চীনেরও এই উচ্চতায় একটি বিমানঘাঁটি রয়েছে।
ভারতীয় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদিও সীমান্তে কিছু শিথিলতা এসেছে, ভারত ও চীনের মধ্যে অবিশ্বাস এখনও রয়ে গেছে। ৩,৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্ত ১৯৫০-এর দশক থেকে বিতর্কিত এবং ১৯৬২ সালে সংক্ষিপ্ত সীমান্ত যুদ্ধ হয়েছিল। ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে পড়ে, তবে ২০২৪ সালের চুক্তির মাধ্যমে সরাসরি ফ্লাইট এবং পারস্পরিক সফর পুনরায় শুরু হয়েছে।



