সুনামগঞ্জের ছাতকে থানা পুলিশের পরিচালিত বিশেষ চিরুনি অভিযান ‘ডেভিল হান্ট’-এর আওতায় স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আফতাব উদ্দিনকে (৫৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৮ আগস্ট) উপজেলার নিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃত আফতাব উদ্দিন ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ফখর উদ্দিনের ছেলে। রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয় পদে থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে ছাতক থানা পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ উদ্যোগ পরিচালনা করছে। এরই অংশ হিসেবে ‘ডেভিল হান্ট’ নাম দিয়ে অভিযানটি চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি দায়ের হওয়া একটি মামলায় আফতাব উদ্দিন এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন। তিনি ছাতক থানার মামলা নম্বর ২৮(৭)২০২৫-এর আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। দীর্ঘদিন নজরদারিতে রাখার পর পুলিশ গোপন সূত্রের ভিত্তিতে জানতে পারে, তিনি নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি চৌকস দল সেখানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
উপজেলা ও স্থানীয় এলাকা সূত্রে জানা যায়, কালারুকা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল ধারায় ছিলেন আফতাব উদ্দিন। ৫ আগস্টের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন ও সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কিত মামলার কারণে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে আড়ালে ছিলেন। অবশেষে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশিত হলে পুলিশ অভিযান জোরদার করে এবং তাকে সরাসরি হেফাজতে নিতে সক্ষম হয়।
এই আটকের বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রিত রাখতে থানা পুলিশের বিশেষ দল সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। ওই আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা থাকায় ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে শনিবার তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ওসি মিজানুর রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, অপরাধ দমন, পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ছাতক থানা পুলিশের এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের ঝটিকা তল্লাশি ও গ্রেপ্তার অভিযান সামনের দিনগুলোতেও জারি থাকবে বলে থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য