আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবনের একটি সেমিনার রুমে ক্লাস চলাকালীন ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে দুই শিক্ষার্থী আহত হন। আহতরা হলেন গণিত বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মাহফুজুর রহমান ও তানভীর নিয়াজ ফাহিম।
প্রাথমিক চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে দেওয়া হয় এবং পরে তাদের বাসায় পাঠানো হয়েছে। গণিত বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তানজিল আল সিয়াম জানিয়েছেন, “ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ ছাদের একটি অংশ পড়ে যায়। আমরা সবাই খুব ভয় পেয়েছি, দুঃখজনকভাবে দুই সহপাঠী আহত হয়েছেন।”
শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, ক্যাম্পাসের পুরোনো কয়েকটি ভবন দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পূর্বে এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম সীমিত করেছিলেন, তবে মানসম্মত সংস্কার সম্পন্ন হয়নি। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, যদি অবিলম্বে প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ না করা হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ
ঘটনার পরপরই উপাচার্য রইস উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শন ও সংস্কারের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ
দুর্ঘটনার প্রতিবাদে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন। তারা উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মেরামত কাজ শুরু করতে হবে।
আহত শিক্ষার্থীদের তথ্য
| শিক্ষার্থী নাম | শিক্ষাবর্ষ | বিভাগ | প্রাথমিক চিকিৎসা স্থান | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|---|
| মাহফুজুর রহমান | ২০২৪-২৫ | গণিত | বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টার | বাসায় ফিরে চিকিৎসা সম্পন্ন |
| তানভীর নিয়াজ ফাহিম | ২০২৪-২৫ | গণিত | বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টার | বাসায় ফিরে চিকিৎসা সম্পন্ন |
বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো ভবনগুলোর স্থায়িত্ব ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন, যদি জরুরি সংস্কার কাজ অবিলম্বে শুরু না করা হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ঘটনার মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং পুরনো ভবনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা আবারও গুরুত্বসহকারে সামনে এসেছে।



