খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই অক্টোবর ২০২৫, ২:৫০ পিএম
জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এবার পাঁচ কোটি শিশুকে টাইফয়েডের টিকা দেওয়া হচ্ছে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই টিকা প্রদান করা হবে। কেউ টিকার বিনিময়ে অর্থ আদায় করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সরকারি অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান জানান, টিকার মান শতভাগ যাচাইয়ের পরই এটি জাতীয় কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে অনলাইনে নিবন্ধনের পাশাপাশি ম্যানুয়ালভাবে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই টিকা কার্যক্রম আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।
ডা. সায়েদুর রহমান আরও বলেন, ২০১৯ সালে পাকিস্তানে এবং ২০২২ সালে নেপালে সফলভাবে এই টিকা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভারতের মুম্বাইয়েও এটি দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ভাসমান পথশিশুদের টিকা কার্যক্রম নিয়ে জানতে চাইলে বিশেষ সহকারী জানান, এনজিও ব্যুরো পথশিশুদের টিকা দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে। এছাড়া ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই টিকাদান কর্মসূচিকে সফল করতে সহযোগিতা করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, টাইফয়েড টিকা ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদন করছে। গ্যাভি প্রকল্পের মাধ্যমে এই টিকা বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। ৯ অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে এক কোটি ৬৮ লাখ শিশুর নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও প্রায় ১৫ শতাংশ নিবন্ধন অফলাইনে সম্পন্ন হয়েছে।
অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ১৯৮৯ সাল থেকে দেশব্যাপী শিশু, কিশোর এবং সন্তান ধারণক্ষম নারীদের টিকা প্রদান করে সংক্রামক রোগজনিত মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব কমাতে বাংলাদেশ নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, টাইফয়েড জ্বর বাংলাদেশে টিকা দিয়ে প্রতিরোধযোগ্য গুরুতর সংক্রমণগুলোর একটি। সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে এই রোগ হয়, যা দূষিত পানি, খাদ্য ও অপরিচ্ছন্নতার কারণে ছড়ায়।
গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ স্টাডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিশ্বে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়, যার মধ্যে প্রায় ৯৩ হাজারের মৃত্যু ঘটে। বাংলাদেশে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। ২০২১ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, দেশে প্রায় ৮ হাজার মানুষ টাইফয়েডে মারা গেছে, যার মধ্যে ৬৮ শতাংশই ছিল ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু।
খবরওয়ালা/টিএসএন
মন্তব্য