জাতীয় দলে ফেরার আশায় জাহানারা, নজর থাকবে ফিটনেসে

দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে ফিরতে চান অভিজ্ঞ পেসার জাহানারা আলম। গত দুই বছর অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করা এই ক্রিকেটার সেখানে স্থানীয় ক্লাব ক্রিকেটে খেলেছেন, পাশাপাশি নিয়েছেন প্রশিক্ষণও। এবার দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় দলের জার্সিতে আবারও মাঠে নামার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ৩৩ বছর বয়সী এই পেসার।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নারী উইং প্রধান রফিকুল ইসলামের সঙ্গে সম্প্রতি যোগাযোগ করেছেন জাহানারা। দেশের ক্রিকেটে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে জাতীয় দলে তাঁর প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। দলে জায়গা পেতে হলে বর্তমান ফিটনেস, পারফরম্যান্স ও যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে তাঁকে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন জাহানারা। এরপর থেকে জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন তিনি। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেননি এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। ফলে আবারও দেশের হয়ে খেলার সম্ভাবনা তাঁর সামনে রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালে বিসিবির নারী বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন জাহানারা। একই সময়ে জাতীয় দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানার বিরুদ্ধে দলীয় গ্রুপিংয়ের অভিযোগও করেছিলেন তিনি। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিসিবিকে ১৩ পৃষ্ঠার একটি চিঠি দিয়েছিলেন এই পেসার। তাঁর অভিযোগগুলো সে সময় দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।

দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও জাহানারা নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার ঘোষণা দেননি। এবার দেশে ফিরে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করায় তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা ও জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিন খেলার রেকর্ড থাকলেও সরাসরি দলে ফেরার নিশ্চয়তা নেই।

এ বিষয়ে বিসিবির নারী উইং প্রধান রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশের হয়ে অবদান রাখতে সক্ষম সব ক্রিকেটারের জন্যই সুযোগ রয়েছে। তবে জাতীয় দলে জায়গা পেতে হলে নির্ধারিত যোগ্যতা ও ফিটনেসের মান পূরণ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘দেশের স্বার্থে সব ক্রিকেটারের জন্যই দরজা খোলা। তবে জাতীয় দলে সুযোগ পেতে হলে যোগ্যতা ও ফিটনেসের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।’

বিসিবির এই বক্তব্যে জাহানারার ফেরার সম্ভাবনা নাকচ করা হয়নি। একই সঙ্গে তাঁর জন্য আলাদা কোনো সুবিধা দেওয়ার কথাও বলা হয়নি। অর্থাৎ, জাতীয় দলে ফিরতে হলে অন্য ক্রিকেটারদের মতোই নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে হবে তাঁকে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন জাহানারার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলে নিজের বোলিংয়ের ধার, শারীরিক সক্ষমতা এবং ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি যাচাই করতে পারবেন তিনি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার সুযোগও তৈরি হবে।

২০১১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় জাহানারা আলমের। এরপর বাংলাদেশের হয়ে ৫২টি ওয়ানডে ও ৮৩টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে খেলার পাশাপাশি নেতৃত্বের দায়িত্বও পালন করেছেন এই পেসার। তাঁর অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ সাতটি টি-টোয়েন্টি ও দুটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে।

দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা জাহানারার বড় শক্তি হলেও দুই বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর আবারও সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার জন্য তাঁকে নিজের বর্তমান প্রস্তুতির প্রমাণ দিতে হবে। অস্ট্রেলিয়ায় ক্লাব ক্রিকেট খেলা ও প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা তাঁকে কতটা প্রস্তুত রেখেছে, সেটিও বিবেচনায় আসতে পারে।

এখন দেখার বিষয়, দেশের ক্রিকেটে ফিরে জাহানারা কতটা দ্রুত প্রতিযোগিতামূলক ছন্দে ফিরতে পারেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্স ও ফিটনেস ধরে রাখতে পারলে জাতীয় দলে ফেরার পথ তৈরি হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রত্যাবর্তন নির্ভর করবে পারফরম্যান্স, যোগ্যতা এবং বিসিবির নির্বাচকদের সিদ্ধান্তের ওপর।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।