খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোকপ্রস্তাব গ্রহণকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলগুলো তীব্রভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। এই ঘটনা সম্পর্কে সামাজিক, রাজনৈতিক ও নাগরিক স্তর থেকে প্রকাশিত প্রতিক্রিয়াগুলো দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) শোকপ্রস্তাবকে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও নির্যাতিত নারীদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এক বিবৃতিতে বলেন,
“একাত্তরে গণহত্যা, গণধর্ষণ ও যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের উত্তরাধিকার বহনকারী ব্যক্তিবর্গ ও তৎসংক্রান্ত গোষ্ঠীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আসন গ্রহণ করে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোকপ্রস্তাব গৃহীত করায় যে ধৃষ্টতা দেখানো হয়েছে, তা ক্ষমার অযোগ্য। দেশের মানুষ এটি কখনোই ভুলবে না।”
বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ শোকপ্রস্তাব থেকে যুদ্ধাপরাধীদের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন,
“সরকারদলীয় চিফ হুইপ যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোকপ্রস্তাব গ্রহণের কথা বলায় আমরা হতবাক হয়েছি। সংসদ স্পিকার তা গৃহীত করেছেন। এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা।”
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীও শোকপ্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন,
“জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। সেখানে প্রমাণিত যুদ্ধাপরাধীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা ইতিহাস কলঙ্কিত করা ছাড়াও নতুন প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা দেয়। জাতীয় সংগীতের প্রতি অবমাননাকর আচরণও গ্রহণযোগ্য নয়। এটি দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও জাতির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে।”
৪১ বিশিষ্ট নাগরিক—কবি, লেখক, সাংবাদিক, গবেষক ও উন্নয়নকর্মী—এক বিবৃতিতে শোকপ্রস্তাব প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে বলা হয়েছে,
“জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণী থেকে অবিলম্বে শোকপ্রস্তাবের এই অংশ প্রত্যাহার করতে হবে। ভবিষ্যতে সংসদ বা অন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বিতর্কিত পদক্ষেপ যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাই সতর্ক থাকুক।”
| সংস্থা/ব্যক্তি | মূল বক্তব্য | দাবি/প্রস্তাবনা |
|---|---|---|
| সিপিবি | মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা | শোকপ্রস্তাব প্রত্যাহার |
| বাসদ | গণহত্যার সহযোগীকে স্মরণ করায় অপমান | যুদ্ধাপরাধীর নাম বাদ দেওয়ার দাবি |
| উদীচী | জাতীয় সংগীত ও সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ | শাস্তি ও যথাযথ সম্মান প্রদানের আহ্বান |
| ৪১ নাগরিক | ইতিহাস ও গণচেতনা রক্ষা | সংসদের কার্যবিবরণী থেকে শোকপ্রস্তাব প্রত্যাহার |
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই প্রস্তাব দেশের মুক্তিযুদ্ধ, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতি যে বিশ্বাসঘাতকতা ঘটিয়েছে, তা রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্তরে তীব্রভাবে নিন্দিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাসের শিক্ষা দেওয়াই এখন সর্বোচ্চ চাহিদা।