খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই আগস্ট ২০২৬, ১:৩১ পিএম
জেলাজুড়ে বিরাজমান তীব্র গ্যাস সংকট নিরসন ও নতুন সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন স্থাপনের সুনির্দিষ্ট দাবিতে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় অটোরিকশাচালকরা। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোর ৬টা থেকে মহাসড়কের ওপর অটোরিকশা আড়াআড়ি করে রেখে চালকরা এই অবরোধ সৃষ্টি করেন। হঠাৎ নেওয়া এই কর্মসূচির ফলে মহাসড়কের উভয় প্রান্তে শত শত যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা চরম যাত্রী ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
জামালপুর জেলায় যাতায়াতকারী সিএনজিচালিত যানবাহনের তথ্যানুসারে জানা যায়, জেলায় সরকারি সংস্থা বিআরটিএ (BRTA) কর্তৃক নিবন্ধিত অটোরিকশার সংখ্যাই প্রায় তিন হাজার। এছাড়া প্রতিদিন আশেপাশের উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে আরও কয়েক হাজার সিএনজি এখানে যাতায়াত করে। ফলে জামালপুর জেলায় নিয়মিত চলাচলকারী মোট সিএনজির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত পাঁচ হাজারে।
বিপরীতে, এত বিশাল সংখ্যক যানবাহনের জন্য পুরো জামালপুর শহরে জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্ব পালন করছে মাত্র একটি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন—’জাবেদ ফিলিং স্টেশন’। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকা এবং পাম্পের অপ্রতুলতার কারণে প্রতিদিন চালকদের কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
প্রতিদিন পর্যাপ্ত জ্বালানি না পেয়ে বাধ্য হয়ে খালি হাতে ঘরে ফিরতে হচ্ছে অনেক চালককে। এতে তাদের দৈনিক উপার্জন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী সিএনজিচালক জয়নাল আবেদীন জানান:
“আমরা রাত ২টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সকালে শুনতে পাই গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। একাধিক দিন রাতে ঘুমাতে না পেরে এবং গ্যাস না পেয়ে আমাদের রোজগার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ৫ হাজার গাড়ির জন্য মাত্র একটি পাম্প কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। আমরা নতুন পাম্প স্থাপন এবং নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের স্থায়ী সমাধান চাই।”
সড়ক অবরোধের তথ্য পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জামালপুর সদর থানা পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবা সচল রাখতে তারা চালকদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার উদ্যোগ নেন।
জামালপুর সদর থানার ওসি নাজমুস সাকিব জানান: “মূলত সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের অভাব এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাস সংকটের কারণেই চালকরা ক্ষুব্ধ হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চালকদের দাবি-দাওয়া শোনেন এবং বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরের সাথে আলোচনার নিশ্চয়তা প্রদান করেন। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে।”
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, জামালপুরের পরিবহন ব্যবস্থার অচলাবস্থা নিরসনে অবিলম্বে নতুন ফিলিং স্টেশন অনুমোদন প্রদান এবং গ্যাসের সার্বিক সরবরাহ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।
মন্তব্য