জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যা: ১৪ আসামির দণ্ড

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে চাচা-ভাতিজাকে হত্যার মামলায় সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত সব আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. শাখাওয়াত, মো. সোহেল, আল আমিন, মো. সাদ্দাম, মো. অন্তর, মো. উজ্জ্বল ও মো. ফয়জুর। তাঁদের বয়স ৩০ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে। অন্যদিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন চান মিয়া, মো. জিয়ার, মো. শাহ আলম, মো. কাওছার, মো. সুমন, মো. রিফাত ও মো. মোস্তফা। তাঁদের বয়স ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। দণ্ডপ্রাপ্ত ১৪ জনের সবার বাড়ি মাদারগঞ্জ উপজেলার গজারিয়া এলাকায়।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকার বাসিন্দা মহর আলী ও তাঁর ভাতিজা স্বপন মিয়াকে গানবাজনার অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে বের করা হয়। মহর আলীর বয়স ছিল ১৯ বছর এবং স্বপন মিয়ার ১৬ বছর।

অভিযোগ অনুযায়ী, ডেকে নেওয়ার পর তাঁদের মাদারগঞ্জের জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার একটি পাটখেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তাঁদের পরিচয় গোপন এবং মরদেহ শনাক্তে জটিলতা তৈরির উদ্দেশ্যে দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে মুখ ঝলসে দেওয়া হয়েছিল বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনার তিন দিন পর কুকুরমারী এলাকার ওই পাটখেত থেকে মহর আলী ও স্বপন মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে স্বপন মিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম ১৯ মে মাদারগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় মোট ২২ জনকে আসামি করা হয়েছিল।

পুলিশ দীর্ঘ তদন্তের পর ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। মামলার বিচারপর্বে আদালত মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য, নথিপত্র এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত ১৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছান।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা হত্যার অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এর ভিত্তিতেই আদালত সাতজনকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং অপর সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

আদালতের এই রায়ের মধ্য দিয়ে প্রায় এক দশক আগে সংঘটিত দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো। তবে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হওয়ার আগে উচ্চ আদালতে এর বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে। ফলে রায় ঘোষণার পরও মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ হয়নি।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।