খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই আগস্ট ২০২৬, ২:৪৬ পিএম
জামালপুর সদর উপজেলায় সড়কের পাশে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রডবোঝাই একটি ট্রাকের পেছনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় এ কে এম সামিউল হক (২৭) নামে এক সহকারী জজ নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় প্রাইভেট কারটির চালক মো. ইদ্রিস আলী (৪৬) গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার ভোরে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের লাহিড়ীকান্দা বাজার এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত এ কে এম সামিউল হক জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী জজ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাবা এ কে এম ফজলুল হক নেত্রকোনা সদর উপজেলার সাতপাই এলাকার সাবেক সচিব। মাত্র ২৭ বছর বয়সে কর্মজীবনের শুরুতেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুতে সহকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামিউল হক রোববার গভীর রাতে ঢাকার লালমাটিয়ার বাসা থেকে একটি প্রাইভেট কারে করে জামালপুরের উদ্দেশে রওনা হন। ভোরের দিকে গাড়িটি জামালপুর সদর উপজেলার লাহিড়ীকান্দা বাজার এলাকায় পৌঁছায়। সেখানে মহাসড়কের পাশে একটি রডবোঝাই ট্রাক বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
প্রাইভেট কারটি ওই ট্রাকের পেছনে পৌঁছানোর পর সেটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। সংঘর্ষের সময় ট্রাকে থাকা লম্বা রডগুলোর কয়েকটি প্রাইভেট কারের সামনের অংশ ভেদ করে ভেতরে ঢুকে যায়। একটি রড বিচারক সামিউল হকের শরীরে বিদ্ধ হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনার পর গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় গাড়িচালক মো. ইদ্রিস আলী গুরুতর আহত হন। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার দানেশ হাওলাদারের ছেলে। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, ট্রাকটি বিকল হয়ে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। ভোরে বিচারককে বহনকারী প্রাইভেট কারটি সেটির পেছনে গিয়ে ধাক্কা দিলে ট্রাকে থাকা রড গাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে বিচারক ঘটনাস্থলেই মারা যান।
আহত চালকের সঙ্গে কথা বলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটি তিনি প্রথমে দেখতে পাননি। পরে ট্রাকটি নজরে এলেও তখন খুব কাছাকাছি চলে যাওয়ায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণে এনে থামানো সম্ভব হয়নি। ফলে সরাসরি ট্রাকটির পেছনে ধাক্কা লাগে।
সড়কের পাশে বিকল বা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকা এবং পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকলে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে রাতে ও ভোরে কম দৃশ্যমানতার কারণে চালকদের জন্য মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভারী যানবাহন শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সতর্ক সংকেত, প্রতিফলকযুক্ত চিহ্ন ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে নিহত বিচারকের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য স্থানীয়ভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
মন্তব্য