খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের প্রধান কোচের পদে পুনরায় ফিরে এসেই চমক দেখালেন অভিজ্ঞ জার্মান মাস্টারমাইন্ড পিটার গেরহার্ড। মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে দলের নতুন মেয়াদের প্রথম অনুশীলনেই ৩৯ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাসেল মাহমুদ জিমিকে ‘বাংলাদেশের হকির প্রিন্স’ এবং ‘মেসি’ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।
মাঠে জিমির সাথে সাক্ষাতের আবেগঘন অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে ৭৮ বছর বয়সী এই মাস্টার কোচের কণ্ঠে ঝরে পড়ে মুগ্ধতা। জিমি প্রসঙ্গে স্মৃতিচারণ করে গেরহার্ড বলেন, “তরুণ বয়স থেকেই আমি ওকে দেখছি। আমার দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারে দুজন অত্যন্ত ‘ডিফিকাল্ট’ (জটিল ও জাদুকরী) খেলোয়াড় পেয়েছি—একজন ভারতের কিংবদন্তি ধনরাজ পিল্লাই, অন্যজন জিমি। ২০০৪ অলিম্পিকে ভারতীয় দলের কোচের দায়িত্বে থাকাকালে পিল্লাইয়ের ঔদ্ধত্য দেখেছিলাম, কিন্তু জিমির প্রভাব একদম আলাদা।”
জিমির খেলার প্রভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “জিমি আমাদের হকির প্রিন্স এবং বাংলাদেশের মেসি। সে এমন একজন তারকা, যে পুরো ৬০ মিনিট এক ছন্দে না খেললেও ম্যাচের মাত্র দুই-তিন মিনিটের ব্যক্তিগত ঝলকে পুরো খেলার দৃশ্যপট বদলে দিতে পারে।”
পুনরায় জাতীয় দলে জায়গা পেয়ে এবং প্রিয় কোচকে কাছে পেয়ে বেশ আবেগাপ্লুত জিমিও। তিনি বলেন, “বয়সের অজুহাতে আমাকে একসময় বাদ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এবার আবার ফেরানো হয়েছে। দেশের হয়ে ইতোমধ্যে ১৯৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছি। দ্বিশতকের মাইলফলক থেকে মাত্র ৬টি ম্যাচ দূরে আছি। কোচ যদি চূড়ান্ত স্কোয়াডে রাখেন, তবে অবশ্যই ২০০ ম্যাচ খেলার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।” কোচের প্রত্যাবর্তন নিয়ে তিনি যোগ করেন, “পিটার একজন চমৎকার কোচ। তিনি আমাদের পরিবেশ ও খেলোয়াড়দের চেনেন। তাঁকে ফেরানোর সিদ্ধান্তটি দারুণ হয়েছে।”
বয়সের কারণে দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে খোশমেজাজে হেসে উত্তর দেন ৭৮ বছর বয়সী এই জার্মান কোচ। তিনি বলেন, “আমি প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে জিম করি এবং মিউনিখে নিয়মিত দুই ঘণ্টা সাইক্লিং করতাম। জীবনে কখনো ধূমপান বা মদ্যপান করিনি। তাই ৭৮ বছর বয়স হলেও কোচিং করাতে আমার কোনো বেগ পেতে হবে না।”
আসন্ন সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে জাপানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে গেরহার্ডকে দায়িত্ব দিয়েছে হকি ফেডারেশন। হাতে মাত্র ছয় সপ্তাহ সময় থাকলেও এই ‘মিশন ইম্পসিবল’ সফল করতে চান তিনি। এ উদ্দেশ্যে দল নিয়ে এ মাসেই জার্মানি সফরে যাবেন তিনি, যেখানে স্থানীয় ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল।
এদিকে প্রস্তুতি পর্বের অংশ হিসেবে ক্যাম্পে থাকা ৩৮ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় ‘ট্রেন ইউর মাইন্ড’ শীর্ষক বিশেষ এক মানসিক স্বাস্থ্য ও পারফরম্যান্স কর্মশালা। “স্বপ্ন নয়, এবার ইতিহাস” স্লোগানে অনুষ্ঠিত এই সেশন নিয়ে জাতীয় দলের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ আশরাফুল জানান, ম্যাচের চরম মুহূর্তে কীভাবে মানসিক চাপ সামলে দলগতভাবে খেলতে হয়, তা বিশেষজ্ঞরা হাতে-কলমে শিখিয়েছেন যা এশিয়ান গেমসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য