জিম্বাবুয়ের কাছে পরাজয়ে হতাশায় তাসকিন

আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বল হাতে ভালো শুরুর পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৭২ রানে গুটিয়ে যায় দলটি। ফলে ৯৯ রানের বড় পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে। এমন হারের পর হতাশা লুকাননি পেসার তাসকিন আহমেদ। তাঁর মতে, উইকেট ও কন্ডিশন বিবেচনায় জিম্বাবুয়ের দেওয়া লক্ষ্য বাংলাদেশের ব্যাটারদের তাড়া করা উচিত ছিল।

ম্যাচে বাংলাদেশের বোলিংয়ে কিছুটা ধারাবাহিকতা থাকলেও ব্যাটিংয়ে সেই ছাপ দেখা যায়নি। রান তাড়ার সময় ব্যাটাররা কেউই বড় জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিতে পারেননি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে থেকেই ইনিংস শেষ হয় দলের।

ম্যাচ শেষে তাসকিন বলেন, একটি ভালো জুটি গড়ে উঠলেই খেলার চিত্র বদলে যেতে পারত। কিন্তু ব্যাটাররা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। তাঁর মতে, ব্যাটিংয়ে একই ধরনের ভুল বারবার হওয়ায় দলকে ভুগতে হচ্ছে।

তাসকিনের ভাষায়, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমরা একটাও জুটি গড়তে পারিনি। একটা জুটি হলেই খেলাটা বের হয়ে যেত। আমাদের ব্যাটিংয়ে প্রায়ই ভুল করা হয়। বোলিংয়ে তাও তো একটা ধারাবাহিকতা আছে। আসলে ব্যাটারদের জেতানো উচিত ছিল, কিন্তু পারে নাই।’

তাসকিনের বক্তব্যে স্পষ্ট, এই পরাজয়ের পেছনে ব্যাটিং বিভাগের ব্যর্থতাকেই বড় কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি। ওয়ানডে ক্রিকেটে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে হলে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হওয়ার পাশাপাশি উইকেট ধরে রাখাও জরুরি। দ্রুত কয়েকটি উইকেট পড়ে গেলে রান তোলার চাপ বাড়ে এবং ব্যাটারদের পক্ষে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলা কঠিন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের ইনিংসেও সেই সমস্যার প্রতিফলন দেখা গেছে।

কন্ডিশন অনুযায়ী লক্ষ্য তাড়া করা সম্ভব ছিল

তাসকিন মনে করেন, আবুধাবির উইকেটে ২৭২ রান এমন কোনো লক্ষ্য ছিল না, যা বাংলাদেশের পক্ষে তাড়া করা অসম্ভব। দুই দলের বোলিংয়ের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বুঝেছেন, সামান্য ভুলের জন্যও প্রতিপক্ষকে বড় মূল্য দিতে হয়েছে। সে কারণে ব্যাটিংয়ের সময় আরও দায়িত্বশীল হলে বাংলাদেশ ম্যাচটি জিততে পারত বলে তাঁর বিশ্বাস।

এ প্রসঙ্গে তাসকিন বলেন, ‘সত্যি বলতে, আজকে যে রকম পিচ ছিল, আমরাও তো বল করেছি, একটু এদিক-ওদিক হলেই কিন্তু পানিশড হচ্ছিলাম। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে অন্তত ২৭০ অবশ্যই তাড়া করার মতো ছিল। ওদের কন্ডিশনে ওরা অস্ট্রেলিয়াকেও কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এই কন্ডিশনে আমাদের আসলে তাড়া করা উচিত ছিল। আমরা আসলেই ভালো খেলিনি।’

জিম্বাবুয়েকে অবশ্যই কৃতিত্ব দিতে হবে। নিজেদের সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে তারা বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি করেছে এবং সেই চাপ ধরে রেখেই জয় নিশ্চিত করেছে। তবে তাসকিনের বক্তব্যের মূল সুর হলো, প্রতিপক্ষের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নিজেদের ভুলগুলোও স্বীকার করতে হবে। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে ধৈর্য, পরিস্থিতি বুঝে খেলার ক্ষমতা এবং জুটি গড়ার মানসিকতা না থাকলে বড় লক্ষ্য তাড়া করা কঠিন।

ফাইনালে উঠতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বড় জয় প্রয়োজন

জিম্বাবুয়ের কাছে এই পরাজয় বাংলাদেশের জন্য আরও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে আগামী ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে হবে। শুধু জয় নয়, ফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে নেট রানরেটের হিসাবও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নেট রানরেটের সমীকরণে এগিয়ে থাকতে হলে বাংলাদেশকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয়ের চেষ্টা করতে হবে। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই সমন্বিত পারফরম্যান্স প্রয়োজন। ব্যাটারদের দ্রুত উইকেট হারানোর প্রবণতা কাটিয়ে উঠতে হবে এবং ইনিংসের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে।

বাংলাদেশের সামনে তাই ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি ভুল সংশোধনের চাপও আছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে যে ঘাটতিগুলো সামনে এসেছে, সেগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তাসকিন অবশ্য দলের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। বড় পরাজয়ের হতাশা সত্ত্বেও তিনি মনে করেন, এখনো একটি ম্যাচ বাকি রয়েছে এবং সেখানে ভালো লড়াই করে ফাইনালে ওঠার চেষ্টা করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘এখনো একটা ম্যাচ বাকি আছে। আমরা চাইব যে ভালোভাবে লড়াই করে ফিরে এসে যেন ফাইনাল খেলতে পারি।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটিই এখন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফাইনালে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে দলকে কেবল জয়ের জন্য খেললেই চলবে না, মাঠে নিজেদের সামর্থ্যেরও প্রমাণ দিতে হবে। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে জুটি গড়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার যে ঘাটতি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দেখা গেছে, তা কাটিয়ে ওঠাই হবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রধান শর্ত।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।