গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানা প্রাঙ্গণে গ্রেপ্তার হওয়া এক আওয়ামী লীগ নেতাকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় প্রকাশ্যে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে থানা চত্বর থেকেই ওই নেতার পাঁচ স্বজনকে গ্রেপ্তার করে। রোববার দুপুরে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে গাজীপুর মহানগরীর ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি আ. মতিনকে (৪৭) তাঁর নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন রোববার দুপুরে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁকে গাজীপুর আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। এই লক্ষ্যে আসামিকে যখন থানা চত্বরে রাখা প্রিজন ভ্যানে তোলার জন্য নিয়ে আসা হয়, ঠিক তখনই সেখানে অবস্থানরত তাঁর স্বজন ও অনুসারীরা উচ্চস্বরে রাজনৈতিক স্লোগান দিতে শুরু করেন। তাঁরা থানা প্রাঙ্গণেই ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ ও ‘জয় জননেত্রী শেখ হাসিনা’ বলে স্লোগান দেন। সরকারি থানা চত্বরে হুট করে এ ধরনের স্লোগান ওঠার সাথে সাথেই দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা তৎপর হয়ে ওঠেন এবং ঘটনাস্থল ঘেরাও করে স্লোগানদানকারী পাঁচজনকে আটক করেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর মরকুন এলাকার আতিকুর রহমানের ছেলে মো. মাহদী হাসান (২৬), একই এলাকার মৃত আব্দুর রউফের ছেলে হারুনর রশীদ (৩৪), মজিবুর রহমানের মেয়ে জহুরা বেগম (৫৫), মো. কাউছার আলীর মেয়ে শারমিন সুলতানা (৩৭) এবং মৃত শহীদ মিয়ার মেয়ে শাহিদা আক্তার (৩৬)। তাঁরা সবাই গ্রেপ্তারকৃত কৃষক লীগ নেতা আ. মতিনের নিকটাত্মীয় ও স্বজন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই টঙ্গী পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় আটককৃত পাঁচ স্বজনকে গ্রেপ্তার দেখানোর পাশাপাশি আরও দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
থানা প্রাঙ্গণে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ ও মামলার বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুল আলম জানান, সরকারি স্থাপনা ও থানার নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে ভেতরে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। যেকোনো মূল্যে থানার আইনি পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে।



