খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক নারীকে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) এ এন এম ইলিয়াস জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন শেষে আদালত এই দৃষ্টান্তমূলক রায় দিলেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. আব্দুর রহিম, শফিকুল ইসলাম শফি ও সামছুল হক সামছু। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত তিন আসামিই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের কঠোর নিরাপত্তায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত ও রাষ্ট্রপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, এই জঘন্য অপরাধের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৩ সালের ২২ জুন। ভুক্তভোগী ওই নারীকে বিয়ের পাত্রী দেখানোর কথা বলে প্রলোভন দেখিয়ে জামালপুর থেকে টাঙ্গাইলের মধুপুরের দোখোলা বনাঞ্চল এলাকায় নিয়ে আসা হয়। গহিন জঙ্গলের নির্জনতার সুযোগ নিয়ে প্রধান আসামি আব্দুর রহিম প্রথমে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে অন্য দুই আসামি শফিকুল ও সামছুল হক সেখানে উপস্থিত হয়ে ওই নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান এবং তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন। এই লোমহর্ষক ঘটনার পর ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত দ্রুত শেষ করে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দিপু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি মামলার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে জানান, আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। প্রধান আসামি আব্দুর রহিমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৭ ধারায় (অপহরণের অপরাধে) ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে আইনের ৯(৩) ধারায় (সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অপরাধে) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে অতিরিক্ত মেয়াদে কারাভোগ করতে হবে।
আইনজীবী আরও জানান, মামলার বাকি দুই আসামি শফিকুল ইসলাম শফি ও সামছুল হক সামছুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অপরাধে ৯(৩) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছে, এর মাধ্যমে সমাজে অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা যাবে এবং নির্যাতিতা নারী ন্যায়বিচার পেয়েছেন।
মন্তব্য