খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: অপারেশন প্ল্যান (ওপি) অনুমোদন না হওয়ায় গত বছরের জুন থেকে এখন পর্যন্ত টানা আট মাস বেতন পাচ্ছেন না প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা (সিএইচসিপি)। তারপরও সেবা বন্ধ নেই। কবে বেতন হবে তা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে আছেন এই হেলথকেয়ার প্রোভাইডাররা। সরকারের তরফ থেকে তাদের জানানো হয়েছে, রাজস্বকরণ খাতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিক। যার ফলে তারা এক সঙ্গে ৯ মাসের বেতন পাবেন। চাকরি রাজস্বকরণের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনও করেছেন তারা।
১৯৯৬ সালে গ্রামীণ দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। মূলত জনগণের অংশগ্রহণে গ্রামীণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা পৌঁছে দেওয়াই ছিল লক্ষ্য। এটি একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কার্যক্রম যার মাধ্যমে দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত গ্রামীণ জনগণ নিকটস্থ কমিউনিটি ক্লিনিক হতে সমন্বিত স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও পুষ্টি সেবা পাচ্ছেন। এটি জনগণ ও সরকারের যৌথ প্রয়াসে বাস্তবায়িত একটি কার্যক্রম। বর্তমানে সারা দেশে মোট ১৪ হাজার ২০০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু আছে। এসব ক্লিনিকে সাধারণ মানুষকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা দেন সিএইচসিপি। সারা দেশে এমন কর্মী আছেন প্রায় ১৪ হাজার। তারা ৮ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না।
সিএইচসিপিদের ভাষ্যমতে, বরাবরই বেতন পাওয়ার আশ্বাস মিলছে। তবে কবে নাগাদ বেতন হতে পারে তার ধারণা কারও কাছে নেই। বেতনে না থাকায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
বলেন, আমরা কঠিন অবস্থার মধ্যে আছি। বেতন না থাকায় খুব কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। তার মধ্যেও সেবা দিয়ে যাচ্ছি। পরিবার নিয়ে চলতে খুব সমস্যা হচ্ছে। ঋণ করে আর কতদিন চলতে হবে বলা যাচ্ছে না।
কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের সভাপতি ও স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. আবু মুহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, রাজস্বকরণে শুধু একটা ধাপ বাকি আছে। ১৩ হাজার ৯২৬ জনের একটা তালিকা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। উপদেষ্টা সময় দিলে একটা মিটিং করা হবে। মিটিংয়ের পর নোটিফিকেশন হবে। নোটিফিকেশনের পর অর্থ মন্ত্রণালয় বেতনের টাকা কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্টের ফান্ডে পাঠাবে। আশা করা যাচ্ছে এটা মার্চের মধ্যেই হবে। তখন বকেয়া সব বেতন তারা একবারে পাবেন। তারা আগে ১৪তম গ্রেডের বেতন পেতেন। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ১৬তম গ্রেড করা হয়েছে। রাজস্বকরণ হলে তারা ১৬তম গ্রেডেই বেতন পাবেন।
খবরওয়ালা/এমএজেড