ইউরোপীয় ফুটবলের গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার সময় যত ঘনিয়ে আসছে, স্প্যানিশ লা লিগার পরাশক্তি ক্লাবগুলোর তৎপরতা ও উত্তেজনা তত বাড়ছে। স্কোয়াডের শেষ মুহূর্তের অসংগতি দূর করতে এবং খেলোয়াড় কেনাবেচার হিসাব মিলিয়ে নিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে বার্সেলোনা, আতলেতিকো মাদ্রিদ ও রিয়াল মাদ্রিদ। বেশ কয়েকটি উচ্চমানের দলবদল এখনো ঝুলন্ত অবস্থায় থাকায় নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্প্যানিশ অভিজ্ঞ ক্রীড়া সাংবাদিক সিরো লোপেসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতালান ক্লাব বার্সেলোনা এই মুহূর্তে ডিফেন্ডার আলেহান্দ্রো বালদে ও তরুণ মিডফিল্ডার মার্ক কাসাদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত। বি দল থেকে উঠে আসা কাসাদোকে কিনতে জার্মানির বুন্দেসলিগার বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য ক্লাব আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ফলে দলবদলের শেষ লগ্নে এসে তাঁর পরবর্তী ঠিকানা জার্মানি হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
অন্যদিকে বাঁ পাশের ফুলব্যাক আলেহান্দ্রো বালদেকে ঘিরে পরিস্থিতি বেশ জটিল। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তাঁকে ধারে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও বার্সেলোনা সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে কোনো ধারের শর্তে তারা রাজি নয়। কাতালান ক্লাবটি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে—বালদেকে নিতে হলে গুণতে হবে নুন্যতম ৪০ মিলিয়ন ইউরো। ফলে ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষ প্রহরে বালদে ন্যু কাম্পে থাকছেন নাকি ওল্ড ট্রাফোর্ডে যাচ্ছেন, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা।
পিছিয়ে নেই আতলেতিকো মাদ্রিদও। ক্লাবটির বিশ্বক্যাপজয়ী ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজকে পেতে ১২০ মিলিয়ন ইউরো এবং পারফরম্যান্সভিত্তিক অতিরিক্ত বোনাসের প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়েছে ইংলিশ জায়ান্ট আর্সেনাল। যদিও এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের কেউই এই প্রস্তাবের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার বা অস্বীকার করেনি। আতলেতিকোর ঘরের মাঠ ওয়ান্দা মেত্রোপোলিতানোতে আলভারেজের থেকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, তবে শেষ মুহূর্তে কেনাবেচা কিংবা বাধ্যতামূলক কেনার শর্তে ধারের চুক্তির মতো বড় কোনো চমক ঘটে যাওয়াও অসম্ভব নয়।
তাছাড়া আতলেতিকোর অভিজ্ঞ উরুগুয়ান সেন্টার-ব্যাক হোসে মারিয়া হিমেনেসের বিদায় প্রায় নিশ্চিত। স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়ার সঙ্গে তাঁর চুক্তি এখন একেবারে অন্তিম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
স্পেনে ট্রান্সফার উইন্ডোর দরজা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হবে আগামী ২ সেপ্টেম্বর। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে ক্লাবগুলোর গতিবিধি নাটকীয় রূপ নিতে পারে। শান্ত মনে হলেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদও বাজারের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর কর্তারা স্কোয়াড পুনর্গঠন সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করলেও রাউল আসেন্সিও এবং এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার ভবিষ্যৎ ও ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সাংবাদিক সিরো লোপেস ইঙ্গিত দিয়েছেন, উইন্ডো বন্ধ হওয়ার শেষ মুহূর্তে মাঝমাঠের শক্তিমত্তা আরও বাড়াতে আকস্মিক কোনো চুক্তি সই করিয়ে চমক দিতে পারে রিয়াল মাদ্রিদও।



