খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই জুলাই ২০২৬, ১:৪১ পিএম
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ফসলের খেতে কাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতের শিকার হয়ে বাবা ও ছেলের করুণ মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর গণেশপাড়া গ্রামে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই বজ্রপাতে একই পরিবারের দুটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই আজ সকালেও মহব্বতপুর গণেশপাড়া গ্রামের বাসিন্দা প্রভু (৫৫) ও তাঁর তরুণ ছেলে নিমাই (২৩) বাড়ির পাশের একটি খেতে পাট কাটতে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁরা দীর্ঘক্ষণ কাজ করেন। দুপুরের দিকে হঠাৎ করে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং চারপাশ অন্ধকার করে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ার আগেই হুট করে তীব্র শব্দে আকস্মিক একটি বজ্রপাত সরাসরি তাঁদের ওপর এসে পড়ে। এতে বাবা ও ছেলে দুজনেই গুরুতর দগ্ধ ও আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
পরে আশপাশের খেতে কাজ করা অন্য কৃষকেরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের দীর্ঘক্ষণ নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ছুটে আসেন। তাঁরা উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
দুর্ঘটনার খবরটি নিশ্চিত করে জামালপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কবিন্দ্র জানান, প্রভু ও নিমাই দুজনে অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন। খেতে পাট কাটার সময় সরাসরি বজ্রপাতের আঘাতে তাঁরা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। একটি কর্মঠ পরিবারের প্রধান ও তরুণ ছেলের এমন অকাল ও মর্মান্তিক বিদায়ে পুরো গ্রামে মাতম চলছে। পরিবারের স্বজনদের কান্নায় এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী এই দরিদ্র পরিবারটিকে কোনো জরুরি সহায়তা দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে খোলা মাঠে কাজ করার সময় প্রতি বছরই এমন বজ্রপাতে অসংখ্য অসচেতন কৃষকের প্রাণহানি ঘটে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশে কালো মেঘ জমলে বা ঝড়ের পূর্বাভাস দেখা দিলে খোলা মাঠ বা গাছের নিচে না থেকে দ্রুত কোনো পাকা দালান বা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া উচিত।
মন্তব্য