রাজধানী ঢাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অভিযোগে ৩২টি মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সংখ্যায় ডিএমপির বিভাগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে মিরপুর বিভাগ। এই বিভাগে ১১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে মাদকদ্রব্য, বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু, দেশীয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের সময় একজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির পরিচয় এবং কোন পরিস্থিতিতে তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
পুলিশের তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় মিরপুর বিভাগে ১১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন ওয়ারী বিভাগে। তেজগাঁও বিভাগে ৬০ জন, মতিঝিল বিভাগে ৫৫ জন, লালবাগ বিভাগে ৫৩ জন, গুলশান বিভাগে ৩৫ জন, উত্তরা বিভাগে ৩৩ জন এবং রমনা বিভাগে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
অভিযানে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ৫ হাজার ৯৩১ পিস ইয়াবা, ৯০ গ্রাম গাঁজা এবং ১৪৪ বোতল দেশীয় মদ। পাশাপাশি একটি অবিস্ফোরিত ককটেল ও একটি অবিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু উদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
অভিযানকালে বিভিন্ন যানবাহন ও অন্যান্য সামগ্রীও জব্দ বা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছে একটি কাভার্ড ভ্যান, একটি মোটরসাইকেল, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, দুটি লাইটার, দুটি কাঁচি, ছয়টি মুঠোফোন, একটি চাপাতি এবং একটি ট্রাভেল ব্যাগ।
রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অপরাধ দমন, মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ, ৩২টি মামলার ধরন এবং উদ্ধার করা বিভিন্ন আলামত কোন কোন ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের নিয়মিত অভিযান অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ। এসব অভিযানে গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধারের তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি মামলার অগ্রগতি এবং অভিযোগের প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।


