শনিবার (১০ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এসব তথ্য জানান।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা ও থানা এলাকায় নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে। তবে কোন মামলায় কতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন, সে বিষয়ে পৃথক কোনো পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।
মিরপুর বিভাগে সর্বোচ্চ গ্রেপ্তার
ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯০ জন মিরপুর বিভাগ থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এরপর রয়েছে মতিঝিল বিভাগ, যেখানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৮২ জনকে। তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৭৯ জন এবং ওয়ারী বিভাগ থেকে ৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া লালবাগ বিভাগ থেকে ৫৯ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৪৭ জন এবং উত্তরা বিভাগ থেকে ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রমনা বিভাগে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৩৬। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ১১ জন এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের অভিযানে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, মিরপুর, মতিঝিল, তেজগাঁও ও ওয়ারী—এই চার বিভাগ থেকেই মোট ৩২৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। অর্থাৎ মোট গ্রেপ্তারের উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে এসব বিভাগ থেকে। তবে শুধু গ্রেপ্তারের সংখ্যা দিয়ে কোনো এলাকার অপরাধ পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। অপরাধের ধরন, জনসংখ্যা, অভিযানের পরিধি এবং পুলিশের কার্যক্রমের মতো বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার
অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের মধ্যে গাঁজার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। পুলিশ ৭৫ কেজি ২৫০ গ্রাম গাঁজা, ১ হাজার ৪৪২ পিস ইয়াবা, ৭ গ্রাম হেরোইন এবং দুই ক্যান বিয়ার উদ্ধার করেছে। উদ্ধার করা এসব মাদকদ্রব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি অভিযানে একটি কাভার্ডভ্যান, দুটি মোটরসাইকেল, নয়টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ২ হাজার ৪০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া একজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া যানবাহন, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ কোন কোন মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন
ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামতও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে।
রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের অবৈধ সরবরাহ ও বিক্রি প্রতিরোধ, অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং অপরাধসংক্রান্ত আলামত সংগ্রহের ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযান ভূমিকা রাখতে পারে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া মানেই কেউ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, এমন নয়। তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারিত হবে।
ডিএমপির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে মোট ৫২৩ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৪০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার এবং একজন ভিকটিমকে উদ্ধারের তথ্যও জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া আলামতগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের বিস্তারিত জানা গেলে অভিযানের ফলাফল সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।


