খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ৬:৮ পিএম
বাংলাদেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে এবং দিন যত যাচ্ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর মিছিল ততই দীর্ঘ হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে নতুন করে আরও দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ের মধ্যে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৪২৩ জন নতুন রোগী চিকিৎসার জন্য দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে ডেঙ্গু বিষয়ক পাঠানো এক নিয়মিত ও সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এই আশঙ্কাজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গু বুলেটিন ও সার্বিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজনিত জটিলতায় যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজন বরিশাল বিভাগে এবং অপরজন খুলনা বিভাগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। রাজধানী ঢাকার হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি বর্তমানে ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীর ভিড় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত এক দিনে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৪২৩ জন রোগীর মধ্যে বড় একটি অংশই বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছর ডেঙ্গুর শুরু থেকেই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মশার প্রজনন ও সংক্রমণ বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বেড়ে যাওয়ায় এডিস মশার বংশবিস্তার বেগবান হয়েছে, যা রোগীদের সংখ্যায় প্রতিফলিত হচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে আজ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে মোট ৫৬ জনের করুণ প্রাণহানি ঘটেছে। আর এ পর্যন্ত সারা দেশের ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে মোট ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ১০৪ জনে। যদিও ভর্তি হওয়া রোগীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন, কিন্তু প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী ভর্তি হতে থাকায় হাসপাতালগুলোতে সিট ও চিকিৎসার স্বাভাবিক শয্যা সংকট তৈরি হচ্ছে।
নগর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসাকাজই যথেষ্ট নয়, বরং এর মূল প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে মশার উৎপত্তি স্থলে। বাসা-বাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিসের আনাচে-কানাচে বা ছাদে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি এডিস মশার প্রজননের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান। তাই বাসাবাড়িতে ৩ দিনের বেশি জমে থাকা পানি তৎক্ষণাৎ ফেলে দেওয়া, ফুলের টব ও এয়ার কন্ডিশনারের ট্রে নিয়মিত পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আকুল আবেদন জানানো হয়েছে। জ্বর বা ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণ যেমন—শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা, চোখে ব্যথা, বমি ভাব বা র্যাশ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এনএস-১ (NS1) পরীক্ষা করানোর পরম পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে যেকোনো শারীরিক জটিলতায় কালক্ষেপণ না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
মন্তব্য