খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ৬:৭ পিএম
দেশে প্রাণঘাতী ডেঙ্গুর বিস্তার থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে মশাবাহিত এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৪৪ জন রোগী।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু পরিস্থিতি সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিন ও বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই রাজধানী ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতেও প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। আক্রান্তদের একটি বড় অংশ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যেখানে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল রূপ ধারণ করছে। অন্যদিকে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, বরিশাল এবং খুলনা বিভাগেও স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে দেখা যাচ্ছে।
চলতি মৌসুমে বর্ষার তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এডিস মশার বংশবিস্তার ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এর ফলে আগস্ট মাসের শুরু থেকেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে আসার আগেই রোগীদের ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে দেরি হচ্ছে। সাধারণ জ্বর ভেবে প্রথম কয়েকদিন অবহেলা করায় শেষ মুহূর্তে রক্তে প্লাটিলেট কমে গিয়ে ও নানা জটিলতা তৈরি হয়ে রোগীর অবস্থা সংকটজনক হয়ে পড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি বাসা-বাড়ি ও কর্মস্থলের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। জমানো পানি তিন দিনের বেশি রাখলে সেখানে এডিস মশা ডিম পাড়ে, তাই টব, প্লাস্টিকের পাত্র বা ভাঙা ডাবের খোসায় জমে থাকা পানি নিয়মিত ফেলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। একই সঙ্গে দিনে বা রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা এবং শরীরে জ্বর অনুভূত হলে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রোগী বৃদ্ধির এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে সামনের দিনগুলোতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হাসপাতালগুলোর জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য