মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালানোর চরম অসাবধানতা ও বেপরোয়া গতির কারণে কেড়ে নিল আট বছরের এক শিশুর প্রাণ। ভারতের বাণিজ্য নগরী মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকায় গাড়ি চালানোর সময় মুঠোফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন এক নারী। অমনোযোগী চালকের গাড়ির নিচে পিষ্ট হয়ে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছে শিশুটি। এ ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকার অত্যন্ত জনবহুল ‘জন ব্যাপটিস্ট রোড’-এ হৃদয়বিদারক এই সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে ঘটনাটির ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।
মুম্বাই পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটির চালকের আসনে ছিলেন ৪৫ বছর বয়সী মেঘা রাওয়াল। তিনি বান্দ্রা এলাকারই স্থানীয় বাসিন্দা। প্রতক্ষ্যদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, গাড়ি চালানোর সময় তিনি মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে অত্যন্ত দ্রুতগতি ও অসাবধানতার সঙ্গে সেটি চালাচ্ছিলেন। সেই সময় রাস্তায় থাকা আট বছর বয়সী ওই শিশুটি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে তাঁর দ্রুতগামী গাড়ির নিচে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দে আশপাশের মানুষ ছুটে আসেন এবং গাড়িচাপায় গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে দ্রুত নিকটস্থ ‘হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে’ নেওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে চালক মেঘা রাওয়ালকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটানো চালকের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে আইনগত পদক্ষেপ শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, আসামির বিরুদ্ধে নতুন ভারতীয় আইন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (বিএনএস)-এর ১০৫, ২৮আই এবং ১২৫ ধারার পাশাপাশি ১৯৮৮ সালের মোটরযান আইনের ১৮৪ ধারায় (ঝুঁকিপূর্ণ ড্রাইভিং) মামলা রুজু করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই পথ দুর্ঘটনার বিষয়ে থানা-পুলিশ এখন গভীর তদন্ত চালাচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত নারীর বিরুদ্ধে ভারতের নতুন ফৌজদারি আইন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (বিএনএস)-এর ১০৫ (অপরাধমূলক নরহত্যা), ২৮১ (বেপরোয়া গাড়ি চালানো) ও ১২৫ (অন্যের জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা) ধারার পাশাপাশি ১৯৮৮ সালের মোটরযান আইনের ১৮৪ ধারায় (ঝুঁকিপূর্ণ ড্রাইভিং) মামলা দায়ের করা হয়েছে। জনবহুল এলাকায় এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পেছনের সব কারণ খতিয়ে দেখতে ঘটনার অধিকতর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।



