বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে কোচ ও সাপোর্ট স্টাফ বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও নতুন পদ্ধতি চালু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নতুন ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ‘ডি থ্রি ট্রফি’র ছয় দলের জন্য প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ম্যানেজমেন্ট ড্রাফট। মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে এই ড্রাফটের মাধ্যমে প্রধান কোচ, সহকারী কোচসহ দলের অন্যান্য সাপোর্ট স্টাফ নির্বাচন করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।
ডি থ্রি ট্রফির বিশেষত্ব হলো, একই ছয়টি দল তিন সংস্করণের ক্রিকেটেই অংশ নেবে। টি-টোয়েন্টি, ৫০ ওভারের ক্রিকেট এবং চার দিনের ম্যাচ—তিন ধরনের প্রতিযোগিতাকে একটি কাঠামোর অধীনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছে বিসিবি। ছয় দলের প্রতিটি স্কোয়াডে থাকবে ২৩ জন ক্রিকেটার। আগামী ২৬ অক্টোবর খেলোয়াড়দের ড্রাফট বা নিলাম হওয়ার কথা রয়েছে।
ম্যানেজমেন্ট ড্রাফটে বিসিবির দেওয়া তালিকা থেকে প্রতিটি দল একজন প্রধান কোচ, দুজন সহকারী কোচ, একজন ফিজিও, একজন ট্রেনার এবং একজন পারফরম্যান্স অ্যানালিস্ট বেছে নিয়েছে। প্রধান কোচ নির্বাচনের ক্ষেত্রে এইস ব্লু স্টার সোহেল ইসলাম, একমি রাজিন সালেহ, সিটিজেনস ব্যাংক মিজানুর রহমান বাবুল, ফরচুন গ্রুপ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সেভেন রিংস সিমেন্ট তালহা জুবায়ের এবং ওয়ালটন আব্দুর রাজ্জাককে বেছে নিয়েছে।
ড্রাফটের অন্যতম আলোচিত দিক ছিল জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের সদস্যদের ঘরোয়া দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া। জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল ফরচুন গ্রুপের সহকারী কোচ হয়েছেন। জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের পেয়েছেন সেভেন রিংস সিমেন্টের প্রধান কোচের দায়িত্ব। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচ হান্নান সরকারও সেভেন রিংসের সহকারী কোচ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন।
জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচির সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটের দায়িত্ব কীভাবে সামঞ্জস্য করা হবে, সেটি নিয়েও আলোচনা রয়েছে। বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন, জাতীয় দলের ব্যস্ততা না থাকলেই সংশ্লিষ্ট কোচরা ডি থ্রি ট্রফিতে কাজ করবেন। কোনো কোচ অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প কোচ নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
ডি থ্রি ট্রফির ছয় দলের আইকন ক্রিকেটারও নির্ধারণ করা হয়েছে। ফরচুনের তাওহীদ হৃদয়, এইস ব্লু স্টারের নুরুল হাসান সোহান, সিটিজেনস ব্যাংকের নাঈম শেখ, ওয়ালটনের মেহেদী হাসান মিরাজ, একমির মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এবং সেভেন রিংস সিমেন্টের মুশফিকুর রহিম এই দায়িত্বে থাকবেন।
১৫ ডিসেম্বর টি-টোয়েন্টি দিয়ে ডি থ্রি ট্রফির মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার কথা। জানুয়ারিতে চার দিনের ক্রিকেট এবং মে মাসে ৫০ ওভারের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। তিন সংস্করণ মিলিয়ে মোট ম্যাচ হবে ৪২টি। এর মধ্যে ১৯টি টি-টোয়েন্টি, ১৬টি ৫০ ওভারের এবং সাতটি চার দিনের ম্যাচ।
ম্যানেজমেন্ট ড্রাফট শেষ হওয়ায় এখন নজর খেলোয়াড় নির্বাচনের দিকে। ২৬ অক্টোবরের ড্রাফট বা নিলামের পর ছয় দলের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড গঠনের প্রক্রিয়াও শেষ হবে। এরপরই বোঝা যাবে নতুন এই কাঠামোয় দলগুলো মাঠে কেমন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।


