ঢাকায় অপরাধ দমনে রাতভর অভিযান, চার এলাকায় আটক ৩৪৪

রাজধানীতে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে মোহাম্মদপুর, পল্লবী, আদাবর ও গেন্ডারিয়ায় একযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে টানা চার ঘণ্টার এ অভিযানে ৩৪৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি সিঙ্গেল শুটার গান, বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র, গুলি ও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে অপরাধীদের তৎপরতা কমানোর লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। চারটি থানার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারে কাজ করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

অভিযানে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), সোয়াট, এসআরবি, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও ডগ স্কোয়াডের সদস্যরা অংশ নেন। কয়েকশ সদস্যের সমন্বয়ে পরিচালিত এ বিশেষ অভিযানে চারটি এলাকার বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে সবচেয়ে বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে পল্লবী এলাকায়। সেখানে আটক করা হয় ২০২ জনকে। এ ছাড়া মোহাম্মদপুরে ৫৯ জন, আদাবরে ৪৫ জন এবং গেন্ডারিয়ায় ৩৮ জনকে আটক করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চার এলাকা থেকে আটক ব্যক্তির সংখ্যা ৩৪৪।

অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও মাদকদ্রব্যের বিষয়ে বিস্তারিত তালিকা কিংবা সুনির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করাও ছিল এ অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।

কিশোর গ্যাং নির্মূলে কঠোর অবস্থান

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, মোহাম্মদপুর ও পল্লবী এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না বলেও তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সংঘবদ্ধ তৎপরতা, মাদক কারবার, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। এসব অপরাধের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত নজরদারি এবং সমন্বিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতের অভিযানই শেষ নয়। অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

যাচাই-বাছাই শেষে আইনি ব্যবস্থা

আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। যাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে, তাঁদের আদালতে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

তবে অভিযানে আটক হওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। কারও বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে কি না, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র বা মাদকের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না এবং অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় কি না—এসব বিষয় যাচাইয়ের পরই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধ দমনে অভিযান ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি নিয়মিত তদন্ত, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অপরাধের উৎস শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা কমাতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সমাজের ভূমিকা প্রয়োজন।

চার এলাকায় যৌথ বাহিনীর এ অভিযান রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চলমান প্রচেষ্টার অংশ। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও মাদকের উৎস অনুসন্ধানের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, তা এখন দেখার বিষয়।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।